বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধি : বগুড়ায় নুরজাহান বিবি (৩৫) নামে এক নববধুকে গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে। বিয়ের মাত্র ১২ দিনের মাথায় তিনি খুন হলেন। হত্যার আগে তাকে ঘুমের ট্যাবলেট খাওয়ানো, ইঞ্জেকশন করা ও রশি দিয়ে হাত বাঁধা হয়। মঙ্গলবার রাতে পুলিশ শাজাহানপুর উপজেলার শাকপালা দীঘিরপাড়া এলাকার ভাড়া বাসা থেকে
দরজা ভেঙে তার লাশ উদ্ধার করে। বুধবার সকালে ঘাতক স্বামী শাহীন আলমকে (৩২)
বগুড়া সদর এলাকা থেকে গ্রেফতার ও বাসার পাশ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার
করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে পুলিশকে বলেছে, বনিবনা না হওয়া,
ফোনে অতিরিক্ত কথা বলা ও রান্নায় ঝাল বেশি দেয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে হত্যা করেছে।
বগুড়ার শাজাহানপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ জানান, বগুড়া
সদরের কদিমপাড়া গ্রামের দৌলতুজ্জামানের ছেলে শাহীন আলম বগুড়া শহীদ
জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের কেবিন ওয়ার্ডবয়।
নিহত নুরজাহান বিবি শিবগঞ্জ উপজেলার দাইমুল্যা গ্রামের মৃত সাবাশ
শাকিদারের মেয়ে। প্রথম স্ত্রী শাহীনকে ও প্রথম স্বামী নুরজাহানকে তালাক দেয়।
নুরজাহান বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে রোগি নিয়ে আসলে তার সাথে
ওয়ার্ডবয় শাহীনের পরিচয় হয়। এরপর দু’জনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
গত ২২ আগস্ট তারা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার
শাকপালার দীঘিরপাড়া এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। মঙ্গলবার রাত
১০টার দিকে প্রতিবেশিরা তালা দেয়া ঘরের বিছানায় নুরজাহানের লাশ পড়ে
থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে শাজাহানপুর থানা পুুলিশ দরজা ভেঙ্গে রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার
করে বগুড়া শজিমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সনাতন চক্রবর্তী জানান,
বুধবার সকালে বগুড়া সদরের একটি স্থান থেকে নুরজাহানের স্বামী হাসপাতালের
ওয়ার্ডবয় শাহীন আলমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে
সে তার স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করে। সে জানায়, বনিবনা না হওয়ায় স্ত্রীকে
হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। মঙ্গলবার আসর নামাজের পর সে প্রথমে কোমলপানীয়র মধ্যে
১০টি ঘুমের ট্যাবলেট খাওয়ায়। কিছুটা অচেতন হলে হাত বেঁধে তিনটি
ঘুমের ইঞ্জেকশন করে। নুরজাহান পুরো অচেতন হয়ে পড়লে ছুরি দিয়ে গলা
কেটে হত্যার পর ঘরের দরজায় তালা দিয়ে পালিয়ে যায়। তার স্বীকারোক্তিতে ভাড়া
বাসার পাশ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করা হয়েছে। শাজাহানপুর থানার
ইন্সপেক্টর আবুল কালাম আজাদ আরো জানান, শাহীন আলম জানিয়েছে, ফোনে
বেশি কথা বলা, রান্নায় বেশি ঝাল দেয়া নিয়ে তাদের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি
হয়। আর এ থেকেই সে স্ত্রী নুরজাহানকে গলাকেটে হত্যা করেছে। বুধবার সকাল
সাড়ে ১০টায় এ খবর পাঠানো পর্যন্ত পুলিশ শাহীন আলমকে জিজ্ঞাসাবাদ
করছিল। মামলা হয়নি।