বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধিঃ আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয় বারের মত ক্ষমতায়। বগুড়া শহরের কেন্দ্রস্থল টেম্পল রোডে সংগঠনের জেলা কার্যালয়ের বেহাল দশা। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ব্যবহারের অনুপযোগি হয়ে পড়ে। সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি পড়ে। প্রায় তিন বছর বাথরুমগুলো অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এ অবস্থায় কার্যালয়ে নেতাকর্মীরা এলেও অস্বস্থিতে থাকেন। কেউ এগিয়ে না এলেও জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি নাইমুর রাজ্জাক তিতাস সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন। বগুড়া জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখা ও প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা জানান, শহরের জিরোপয়েন্ট সাতমাথার টেম্পল রোডে ১০ শতক অর্পিত সম্পত্তির উপর জেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের কার্যালয়। জায়গাটি জেলা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নামে ইজারা নেওয়া। সামনের দিকে ব্রিটিশ আমলের দ্বিতল ভবন রয়েছে। একটি সরু গলিপথ পেরিয়ে পাশাপাশি দুটি ঘর। এর একটি জেলা আওয়ামী লীগ ও অন্যটি জেলা ছাত্রলীগ ব্যবহার করে। সামনের টিনের ছাউনি দেওয়া খোলা হল রুমের মতো অংশে শহর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, মহিলা লীগ ও যুব মহিলা লীগের কার্যক্রম চলে।
দ্বিতল ভবনের ওপরতলা বামপন্থী কয়েকটি সংগঠনে কার্যালয়। গত ১৯৯৪ সালে বিরোধীদলীয় নেতা থাকাকালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের ফলক উন্মোচন করেন। এর আগে জেলা আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতি আলহাজ্ব মমতাজ উদ্দিন ও প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস জামান মুকলের নেতৃত্বে সংস্কার করা হয়। শতবর্ষী ভবনসহ জায়গাটি দীর্ঘদিন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ব্যবহার করলেও এরপর আর সংস্কার হয়নি। ফলে ভিতরে খোলা অংশের টিন, বাঁশ, চাঁটাই নষ্ট হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই ভিতরে পানি পড়ে। অনেক সময় ভিতরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
নাইমুর রাজ্জাক তিতাস জানান, দলীয় কার্যালয় সকল নেতাকর্মীর মিলন স্থল। কিন্তু এটার জীর্ণদশার কারণে সকলকে কষ্ট করতে হয়। তাই তিনি নিজ উদ্যোগে সংস্কার করছেন। এতে তার দেড় লক্ষাধিক টাকা ব্যয় হচ্ছে। এ সংস্কার কাজে জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক সুলতান মাহমুদ খান রনিসহ নেতৃবৃন্দ তাকে সহযোগিতা করছেন। চলতি সেপ্টেম্বর মাসেই কাজ শেষ হবে। ছাত্রলীগ সভাপতি তিতাসের এ মহতি উদ্যোগকে জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম ডাবলু এবং জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-০১ ডালিয়া নাসরিন রিক্তা স্বাগত জানিয়ে বলেন, দলীয় কার্যালয় আমাদের দ্বিতীয় বাসভবন। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় প্রখর রোদ আর বৃষ্টি হলে কার্যালয়ে থাকা সম্ভব হতোনা। সংস্কার কাজে সকলের সহযোগিতা করা প্রয়োজন।