প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সম্প্রতি শুরু হওয়া এলিট বাহিনী র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের মাদক ও অবৈধ ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে অভিযানের পরিসর বাড়ছে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তা কর্মচারীও চলমান ক্র্যাকডাডনের আওতামুক্ত নয়।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতা , এমপি, সাবেক ও বর্তমান মন্ত্রী, সিভিল ও পুলিশ প্রশাসনের কাউকেও ছাড় দেওয়া হবে না যত বড় নেতা ও প্রভাবশালী হউক না কেন যদি কোন অপকর্মের সাথে জড়িত থাকে, দলীয় সুত্র জানায়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল শনিবার বলেন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা হলো জনপ্রতিনিধি হউক, প্রশাসনের লোক হউক যেইই অন্যায় কাজ করবে তার বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকায় এক অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই মন্তব্য করেন । তিনি বলেন যেই অবৈধ ব্যবসা করবে, অনৈতিক কাজ করবে , টেণ্ডারবাজী করবে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে এবং উপযুক্ত প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ‘আমরা কাউকে ছাড় দিচ্ছি না’।
এদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের শনিবার কক্সবাজারে দলের জেলা ইউনিটের এক অনুষ্ঠানে বলেন দলের ও সরকারের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করার জন্য দলের ভিতরের সব আগছা, পরগাছা পরিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন অপকর্ম, অপরাধ যেইই করবে যত বড় প্রভাবশালী হউক, টাকাওয়ালা হউক, যত বড় নেতা হউক কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
ওবায়দুল কাদের নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন ‘যে যেখানেই আছ সাবধান হয়ে যাও শেখ হাসিনার অ্যাকশন শুরু হয়ে গেছে’। তিনি বলেন এই অ্যাকশন সারা বাংলাদেশে হবে।
গত বুধবার রাজধানীর ইয়াংমেনস ক্লাব সহ কয়েকটি স্পোর্টস ক্লাবে র্যাবের অভিযানে অবৈধ ক্যাসিনোর সন্ধান, বিপুল পরিমাণ মাদক , নগদ অর্থ উদ্ধার ও ১৮২ জনকে গ্রেফতারের মধে দিয়ে ক্র্যাকডাডনের জানানি দেওয়া হয়। ঐদিনই ইয়াংমেনস ক্লাবের অবৈধ ক্যাসিনোর মালিক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়াকে র্যাব তার গুলশানের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে।
এই অভিযানের জের ধরে ইয়াংমেনস ক্লাবের গভর্নিংবডির চেয়ারম্যন বর্তমান সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় সরকারের সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেননের নাম গণমাধ্যমে প্রচার হচ্ছে। বুধবারের র্যাবের অভিযানের ধারাবাহিকতায় শুক্রবার র্যাব ঢাকায় নিকেতনে অভিযান চালিয়ে আর এক যুবলীগ নেতা জি কে শামীম ও অস্ত্র সহ তার সাতজন দেহরক্ষীকে গ্রেফতার করে, ও আগ্নেয় অস্ত্র, বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও বিপুল টাকার এফডিআর ডকুমেন্ট উদ্ধার করে। একই দিন ঢাকায় কলাবাগান ক্রীড়াচক্র ও ধানমণ্ডি ক্লাবে র্যাব অভিযান চালায় ৫ জন গ্রেফতার করে, অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করে।র্যাব চট্টগ্রামে বিভিন্ন স্পোর্টস ক্লাবে শনিবার অভিযান চালায়।