বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধিঃ বগুড়ায় মন্ত্রী ও এমপির নাম ভেঙে শতাধিক ব্যক্তিকে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেবার নামে অন্তত কোটি টাকা হাতিয়ে নেবার অভিযোগে ধুনট উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি সুলতান মাহমুদকে (৩৬) গ্রেফতার করা হয়েছে। ধুনট থানা পুলিশ গ্রেফতারি পরোয়ানায় বুধবার দুপুরে তাকে চরধুনট এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। ধুনট থানার ওসি ইসমাইল হোসেন এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। অভিযোগ প্রসঙ্গে সুলতান মাহমুদ জানান, তিনি শুধু আত্মীয়-স্বজনের কাছে কিছু টাকা নিয়েছেন। এটা তার পারিবারিক বিষয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সুলতান মাহমুদ ২০১৫ সালে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ নিয়ে রাজনীতি শুরু করে মাত্র দুই বছর পর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি হন। এরপর থেকে
তিনি দখলবাজি, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, তদবির, নিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। সবচেয়ে বেশি নিয়োগ বাণিজ্য করেছেন। সাবেক মন্ত্রী, এমপি, প্রশাসনিক ও বিভিন্ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে পুলিশ কনস্টেবল, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, স্বাস্থ্য বিভাগসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারনা শুরু করেন। চাকরি দেবার নামে ফাঁদে ফেলে বগুড়ার ধুনট, সিরাজগঞ্জের কাজিপুরসহ বিভিন্ন এলাকার দুই শতাধিক ব্যক্তির কাছে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তার প্রতারণা থেকে রাজনীতিক, পুলিশ, আইনজীবী, শিক্ষক কেউ বাদ পড়েননি। টাকা
হাতিয়ে নেবার সময় সুলতান মাহমুদ রূপালী ব্যাংক ধুনট শাখায় তার সঞ্চয়ী হিসাবের চেক দিয়েছেন। চাকরি দিতে না পারলে এক মাসের মধ্যে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে দেবার আশ্বাস দেন। কিন্তু তার ওই ব্যাংক হিসাবে কোন টাকা না থাকায় হতাশ হয়ে পড়েন চাকরি প্রার্থীরা। তার প্রতারনার শিকার বগুড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি কোয়েল
ইসলাম জানান, সুলতান মাহমুদ নিজেকে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের নাতনী জামাই পরিচয় দেন। তিনি তার (কোয়েল) মেয়ে জামাইকে এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানীতে চাকরি দেনার নামে তিন বছর আগে পাঁচ লাখ ৪০ হাজার টাকা নেন। বিশ্বাস স্থাপনে ব্যাংক চেক দিয়েছিলেন। চাকরি দিতে না পারলেও টাকা ফেরত দিতে টালবাহানা করছেন। ফোন বন্ধ থাকায় তাকে বাড়ি ও শ্বশুরবাড়ি কোথাও পাওয়া যাচ্ছেনা।
ধুনট থানার ওসি ইসমাইল হোসেন জানান, সুলতান মাহমুদ আগে সাবেক মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এবং তিনি নেতার হবার পর স্থানীয় এমপি হাবিবর রহমানের নাম ভেঙে চাকরি দেবার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ১৮ লাখ টাকা নেয়ায় দুই ব্যক্তি আদালতে মামলা করেছেন। এ দুটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। বুধবার দুপুরে তাকে চর ধুনট থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।