প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েটের) মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে যেভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে তা সন্দেহজনক উল্লেখ করে বলেন ২০০১ সালে এভাবে তার দলের নেতাকর্মীদের হত্যা করা হয়েছে।
তিনি বলেন আবরারের হত্যাকারীরা সর্বোচ্চ শাস্তি পাবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিকেলে সরকারি বাসভবন গণভবনে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জাবাবে এই বক্তব্য দেন। প্রধানমন্ত্রীর সম্প্রতি জাতিসংঘের ৭৪ সাধারণ অধিবেশনে যোগদান এবং ভারতে সফরের উপর এই সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়।
গত সোমবার ভোর রাতে বুয়েটের তড়িৎ এবং ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদের লাশ শেরে বাংলা হলে পাওয়া যায়। ময়না তদন্ত ও ফরেনসিকের পর বলা হয় আবরারকে বাঁশ জাতীয় ভোঁতা কোনো কিছুর আঘতে হত্যা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন আমি বিবেচনা করেছি অন্যায় ভাবে একটা বাচ্চা ছেলে, কত ? একটা ২১ বছরের ছেলে (আবরার) তাকে হত্যা করা হয়েছে। পিটিয়ে পিটিয়ে কি অমানবিক, পোস্টমর্টেম রিপোর্ট দেখেছেন তার বাইরে অতো ইনজুরি নেই, সমস্ত ইনজুরিগুলো ভিতরে।
শেখ হাসিনা বলেন ২০০১ সালে ঐ সময় আমাদের বহু নেতাকর্মী তাদেরকে এমন ভাবে পেটানো হতো হাতুরি দিয়ে পিটিয়ে বা এমনভাবে পেটানো হতো যে বাইরে কোন ইনজুরি নেই কিন্তু ভিতরে ইনজুরির জন্য তারা মারা যেত।
তিনি বলেন স্বাভাবিকভাবে এটা একটা সন্দেহের ব্যাপার, ব্যাপারটা কি? এরা কারা?
প্রধানমন্ত্রী বলেন আবরার একটা সাধারন পরিবারের ছেলে। একটা মেধাবী ছেলে তাকে এভাবে ধরে নিয়ে এভাবে মারা, এত নৃশংসতা কেন? এ জঘন্য কাজ কেন? তিনি বলেন ‘এদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি এবং যত রকমের উচ্চ শাস্তি যা দেওয়ার সেটা দেওয়া হবে এতে কোন সন্দেহ নাই’।
শেখ হাসিনা বলেন কেউ যদি কোন অপরাধ করে সে কোন দল, কি করে না করে, সেটা আমি কিন্তু দেখি না। আমার কাছে যে অপরাধী সে অপরাধী ,আমি অপরাধী হিসেবেই দেখি। বুয়েটে যে ঘটনা ঘটেছে, আমি যখন খবর পেলাম সাথে সাথে আমি কিন্তু পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিলাম আলামতগুলো সংগ্রহ করতে । যেটা যে কোন হত্যার পরে একান্তভাবে প্রয়োজন। সাথে সাথে আমি বলেছিলাম সিসিটিভির ফুটেজগুলো সংগ্রহ করতে। তারা সময়মত পোঁছে যায়।
প্রধানমন্ত্রী বুয়েটে ঘটনাস্থলে পুলিশ আলামত সংগ্রহ করতে গেলে তাদেরকে ঘেরাও করার কথা তুলে ধরে বলেন আমাদের দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো কি জানেন যখন পুলিশ সেখানে সিসিটিভির ফুটেজগুলো হার্ডডিস্কে নিয়ে আসছে তখন তাদেরকে ঘেরাও করা হলো । তাদেরকে আঁটকে রেখেছে, আলামত, ফুটেজ নিয়ে আসতে দেওয়া হবে না।
শেখ হাসিনা বলেন তারা (শিক্ষার্থীরা) বলছে ফুটেজগুলো পুলিশ নষ্ট করে দেবে। পুলিশ গেছে আলামতগুলো সংগ্রহ করতে। ডেডবডির (আবরার লাশের) পোস্টমর্টেম, ফরেনসিক সব ব্যবস্থা করা হয়।
তিনি বলেন ঘটনার পর আমি বলেছি যে, কোন রুম কে কোথায় আছে (আবরার হত্যার সাথে জড়িত)যে কটা পারো সবগুলোকে এরেস্ট কর। সবগুলোকে এরেস্ট করে।
পুলিশকে আলামত নিয়ে আসতে না দেওয়ার কথা উল্লেখ করে, তিনি বলেন তিনি পুলিশের আইজপিকে জিজ্ঞাসা করনে তা হলে যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তারাও আছে কিনা ? কেননা ফুটেজগুলেই পেলে ধরা পরে যাবে।
শেখ হাসিনা বলেন ফুটেজ দেখেই আইডেনটিফাই করেই ধরা হচ্ছে এখানে কে ছাত্রলীগ কে ছাত্রদল সেটা আমি বিবেচনা করিনি ।
তিনি বলেন যারা এই ধরণের ঘটনা ঘটাবে আমার পার্টির এটাতো আমি কখনও মেনে নেব না। আমি সঙ্গে সঙ্গে ছাত্রলীগকে ডেকেছি বলেছি সবগুলকে বহিষ্কার কর এবং পুলিশকে বলেছি এরেস্ট কর।
ছাত্র রাজনীতির নিষিদ্ধের ব্যাপারে শেখ হাসিনা ছাত্র রাজনীতির নিষিদ্ধের বিপক্ষে বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি অবশ্য বলেন বুয়েটের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্তৃপক্ষ যদি চায় সেখানে সরকারের কোন কিছু করার নেই।