বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধিঃ বগুড়ার সান্তাহারে সরকারি বাফার গুদাম থেকে ১৬৫ কোটি টাকার সার আত্মসাৎ মামলায় অভিযুক্ত সাবেক উপপ্রধান প্রকৌশলী নবির উদ্দিন খানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত প্রায় ৫ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক আমিনুল ইসলাম বুধবার বিকালে তার দপ্তরে মামলা করেন। উপ-পরিচালক মনিরুজ্জামানের পক্ষে সহকারি পরিচালক রবীন্দ্রনাথ চাকী মামলাটি রেকর্ড করেন। রাত সাড়ে ৯টায় সহকারি পরিচালক আমিনুল ইসলাম মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এজাহারে সূত্র জানায়, বগুড়ার সান্তাহারে সরকারি বাফার গুদামের উপ-প্রধান প্রকৌশলী (বরখাস্ত) নবির উদ্দিন খান নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার ধোপাপাড়া গ্রামের মৃত ময়েজ উদ্দিনের ছেলে। তার বিরুদ্ধে ১৫৩ কোটি টাকা মূল্যের
প্রায় সাড়ে ৫২ হাজার মেট্রিক টন সরকারি সার আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। ২০১৮ সালের ৩১ অক্টোবর নবির উদ্দিন খানসহ দুই জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। ওই মামলায় প্রায় ৮ মাস কারাভোগের পর নবির উদ্দিন খান সম্প্রতি জামিনে ছাড়া পেয়ে লাপাত্তা হয়। তার বিরুদ্ধে আরো ১২ কোটি টাকার সার আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। দুটি মিলে ১৬৫ কোটি টাকার সার আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত হবার পর তাকে বরখাস্ত করা হয়।
মামলার বাদী দুদকের সহকারি পরিচালক আমিনুল ইসলাম জানান, সার আত্মসাতের মামলা তদন্তকালে জানা যায়, নবির উদ্দিন খান এবং তার স্ত্রী মোহছীনা বেগম জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অস্বাভাবিক পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন। এরপর তাদের দু’জনকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য ২৫ জুন আলাদাভাবে চিঠি দেওয়া হয়। ওই চিঠি পাওয়ার পর মোহছীনা বেগম তার সম্পদ বিবরণী দুদক কার্যালয়ে দাখিল করলেও তার স্বামী নবির উদ্দিন খান তা অগ্রাহ্য করেন। তখন দুদক কর্মকর্তারা তার সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করেন। তদন্তকালে তার নামে ৪ কোটি ৯৬ লাখ ১ হাজার ৮৩৯ টাকার স্থাবর এবং অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়। এরপরই তার বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত হয়।
তিনি আরও জানান, আসামী নবির উদ্দিন খানের বিরুদ্ধে ওই পরিমাণ সম্পদ অর্জন এবং তার তথ্য গোপনের অভিযোগে দুদক আইনের দু’টি ধারায় মামলা করা হয়েছে। তার স্ত্রী যে সম্পদ বিবরণী জমা দিয়েছেন সেটি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। অসঙ্গতি পেলে তার বিরুদ্ধেও মামলা হবে।