বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধিঃ বগুড়ার দুপচাঁচিয়া ৪৭ বছরের প্রাচীন জাহানারা কামরুজ্জামান (জেকে) ডিগ্রী কলেজটি দীর্ঘ ১৩ বছরেও এমপিওভুক্ত হয়নি। সম্প্রতি ঘোষিত নতুন এমপিও ভুক্তির তালিকায় এ কলেজের নাম না থাকায় শিক্ষক-কর্মচারীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। তারা জাতীয় চার নেতার একজনের নামে প্রতিষ্ঠিত কলেজটি অবিলম্বে এমপিওভুক্ত করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় শিক্ষানুরাগিরা এলাকায় উচ্চ শিক্ষা প্রসারে ১৯৭২ সালে দুপচাঁচিয়া উপজেলা সদরে বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহকর্মী জাতীয় চার নেতার একজন এএইচএম কামারুজ্জামান ও তার স্ত্রী জাহানারা কামারুজ্জামানের নামে কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন।
উপজেলার নিলাহালী গ্রামের কৃতিসন্তান তৎকালীন সংসদ সদস্য মরহুম মুক্তিযোদ্ধা হাসান আলী এমপির ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের স্মৃতি বিজড়িত কলেজটি এলাকার ছাত্র-ছাত্রীদের উচ্চ শিক্ষার প্রসার ঘটাতে থাকে। ১৯৮৩ সালে কলেজটি একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি এমপিওভুক্ত হয়। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের এই কলেজটি ২০০৬ সালে কলেজটি ডিগ্রী কলেজে উত্তীর্ণ হয়। ২০০৭ সালে ডিগ্রি একাডেমিক স্বীকৃতি লাভ করে।
বর্তমানে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীতে প্রায় দুই হাজার ও ডিগ্রী শ্রেণীতে ২০০ ছাত্রছাত্রী লেখাপড়া করছেন। গত ২০০৯ সালে প্রথম ও ২০১৮ সালে দ্বিতীয়বারের মত এমপিও ভুক্তির জন্য আবেদন করা হয়। এবারও এমপিও ভুক্তির তালিকায় নাম না থাকায় কর্মরত ২১ জন শিক্ষক-কর্মচারী হতাশ হয়ে পড়েছেন।
কলেজের মনোবিজ্ঞান শিক্ষক মাসুদুর রহমান মাসুদ, বাংলার শিক্ষক রফিকুল ইসলাম সেজু, অর্থনীতির শিক্ষক গোলাম মোস্তফা প্রমুখ জানান, কলেজটি ডিগ্রীতে উন্নীত হবার ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত এমপিওভুক্ত করা হয়নি। দুবার আবেদন করেও ব্যর্থ হওয়ায় ডিগ্রি কোর্সের ১৩ জন শিক্ষক ও দু’জন কর্মচারী এবং কারিগরি শাখার ৫জন শিক্ষক ও একজন কর্মচারীসহ মোট ২১ জন শিক্ষক-কর্মচারী মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জহুরুল ইসলাম জহির জানান, কয়েক বছর আগে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম জাতীয় চার নেতার এক নেতা ও তার স্ত্রীর নামে প্রতিষ্ঠিত জাহানারা কামরুজ্জামান ডিগ্রি কলেজ পরিদর্শনে আসেন। তিনি কলেজটি সরকারিকরণের আশ্বাসও দিয়েছিলেন। দ্বিতীয়বারেও এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারিরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। এ অবস্থায় জাতীয় নেতা শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের স্মৃতি বিজরিত প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি এ ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন।