বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধিঃ বগুড়া শহরের নাটাইপাড়া কৃষ্ণপাড়ায় ভাড়া বাসায় মানিকগঞ্জ নার্সিং কলেজের ছাত্রী তিথি রানী ঘোষের আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে আদালতে স্বামী ও শ্বশুরসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তার বড় ভাই আদমদীঘি উপজেলার কুসুম্বি গ্রামের আনন্দ ঘোষ সোমবার বিকালে বগুড়ার সিনিয়রজুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা করেন। বিচারক বেগম সুপ্রিয়া রহমান অভিযোগটি আমলে নিয়ে এটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করতে বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।
আসামিরা হল স্বামী বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার গোহাইল পালপাড়া গ্রামের বিমল চন্দ্র পাল, শশুর বিনয় পাল, শাশুড়ি শ্যামলী রানী পাল, সতীন গীতা রানী পাল, ননদ প্রতিমা রানী পাল, নন্দাই গোকুল চন্দ্র পাল, আত্মীয় গৌরাঙ্গ পাল ও কার্তিক পাল।
বাদী এজাহারে উল্লেখ করেছেন, ছোট বোন তিথি রানী ঘোষকে নার্সিং শিক্ষায় শিক্ষিত করতে মানিকগঞ্জ নার্সিং কলেজে ভর্তি করে দেন। প্রধান আসামি বিমল চন্দ্র পাল স্ত্রী ও সন্তান থাকার পরও নিজেকে অবিবাহিত হিসেবে পরিচয় দেন। বিমল তার বোন তিথির সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে গত ১০ মার্চ বগুড়ার নোটারী পাবলিকের সামনে হিন্দুরীতিতে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। বিয়ের কিছুদিন পর বিমল চন্দ্রের রূপ পাল্টে যায়। ভালবেসে বিয়ে করা তিথির কাছে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। টাকা দিতে না পারায় বিমল তার উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতে থাকে।
তিথি প্রথমে পরিবারের কাছে তার বিয়ের কথা গোপন রাখলেও পরে জানাতে বাধ্য হন। বিয়ের পর তিথি স্বামী বিমলের সাথে শশুর বাড়িতে গেলে আসামিরা তার উপর নানাভাবে নির্যাতন শুরু করে। এক পর্যায়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর তিথি তার বড় ভাই আনন্দ ঘোষ ও ছোট বোন প্রীতিকে সাথে নিয়ে গোহাইল ইউনিয়নের স্থানীয় মেম্বরের কাছে বিচার দাবি করেন। ইউপি মেম্বর সালিস ডাকলেও আসামিরা সেখানে উপস্থিত হয়নি। তারা তাদের প্রতিনিধির মাধ্যমে জানায়, যৌতুকের ৫ লাখ টাকা না দিলে তিথির সংসার হবেনা। এছাড়া আসামিরা তিথিকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। তিথি নিজেকে সামলাতে না পেরে আসামীদের প্ররোচনায় গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে বগুড়া শহরের নাটাইপাড়া কৃষ্ণপাড়ায় ভাড়া বাসায় এসে আত্মহত্যা করেন। এ ব্যাপারে সদর থানায় অস্বাভাবিক মৃত্যু মামলা হয়েছে।