বাংলা হেডলাইনস মানিকগঞ্জ প্রতিনিধিঃ মানিকগঞ্জের শিবালয় ও দৌলতপুর উপজেলার পদ্মা-যমুনা নদীতে পৃথক অভিযানে মা ইলিশ ধরার অপরাধে ১৮ জেলেকে আটক, প্রায় ২৬লক্ষ মিটার কারেন্ট জাল উদ্ধার ও প্রায় দুই মন ইলিশ জব্ধ করা হয়েছে।
পাটুরিয়াঘাট নৌ পুলিশ, শিবালয় উপজেলা প্রশাসন ও হরিরামপুর উপজেলা প্রশাসন পৃথক পৃথক অভিযান চালিয়ে অসাধু জেলেদের আটকসহ কারেন্ট জাল উদ্ধার ও মাছ জব্দ করে।
আটককৃত জেলেদের ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জেল দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার করা কারেন্ট জাল পুড়িয়ে ধ্বংস ও ইলিশ মাছ স্থানীয় মাদ্রাসা, কারাগার ও এতিম খানায় দেওয়া হয়েছে।
পাটুরিয়া ফেরিঘাট নৌপুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, নৌ পুলিশের ডিআইজি আতিকুল ইসলামের নেতৃত্বে শনিবার রাত থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত পদ্মা ও যমুনা নদীতে ইলিশ শিকার প্রতিরোধে অভিযান চালনা হয়। এসময় শিবালয় ও দৌলতপুর উপজেলার আশপাশের পদ্মা-যমুনা নদীর বিভিন্ন স্থানে মা ইলিশ ধরার সময় ছয় জেলেকে আটক করা হয়। একই সময় উদ্ধার করা হয় ১মন ইলিশ মাছ ও ২৫ লক্ষ মিটার কারেন্ট জাল। জেলেদের ইলিশ শিকারে ব্যবহৃত শতাধিক নৌকা নদীতে ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইলিশের প্রজননকালীন সময়ে গত ৯ অক্টোবর থেকে এই অভিযান চলে আসছে। আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত অভিযান চলবে বলেও তিনি জানান।
এদিকে হরিরামপুর উপজেলায় ইলিশ মাছ সংরক্ষন অভিযানে ১৫০০০ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। সেই সাথে হরিরামপুরের হাতিঘাটা বাজারে অভিযান চালিয়ে ৩জন কে মা ইলিশ বিক্রি করা অবস্থায় আটক করা হয়। আটককৃতদের সরকারি আদেশ অমান্যকরার দায়ে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন অভিযানে নেতৃত্বদানকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান। জব্দকৃত কারেন্টজাল পুড়িয়ে ফেলা হয়। আর জব্দকৃত ইলিশ মাস স্থানীয় এতিমখানায় দেওয়া হয়। উক্ত অভিযানে উপজেলা মৎস্য অফিসার ও স্থানীয় পুলিশ সদস্যরা সহায়তা করেন।
এছাড়া শিবালয় উপজেলা প্রশাসন সোমবার দিনভর পদ্মা ও যমুনা নদীতে অভিযান চালিয়ে ইলিশ ধরার অপরাধে ৯ জেলেকে আটক করে। আটককৃত প্রত্যেককে ৫হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়। প্রায় এক লক্ষ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয় এবং নিয়মমাফিক ধ্বংস করা হয়। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন শিবালয় উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) জনাব জাকির হোসেন।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, আরো দুইদিন অভিযান আরো জোরদার করা হবে।