বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধিঃ বগুড়ার শিবগঞ্জে স্বামীর দাবি করতে আসা নির্মাণ শ্রমিক শিল্পী খাতুনকে (৪০) চোর সাজিয়ে শুক্রবার প্রকাশ্যে খুঁটির সাথে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনা ফেসবুকে ভাইরাল এবং গণমাধ্যমের সোচ্চার হওয়ায় পুলিশ এই ঘটনার মামলা নেয়।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের পরিবর্তে ‘হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিটের ধারায়’ মামলা নেয়া হয়েছে।
গণমাধ্যমকর্মীরা সোচ্চার হলে পুলিশ ওই নির্যাতিত নারী শিল্পীর ভাই মামুন হোসেনকে থানায় ডেকে এনে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয়। এরপর পুলিশ তাতে শুধু ‘হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিটের ধারায়’ মামলা লিখে তা রেকর্ড করে। এজাহারে শিল্পী খাতুনের দাবি মতে তার স্বামী রাফিকে প্রধান আসামি করে আরো অজ্ঞাত ৫-৬ জন আসামি করা হয়। এরপর পুলিশ রাফিকে গ্রেফতার করে। এজাহার প্রসঙ্গে মামুন হোসেন জানান, রোববার দুপুরে পুলিশ তাকে থানায় ডেকে নিয়ে যায়। এরপর কম্পিউটারে কম্পোজ করা কাগজে স্বাক্ষর নেয়। মামলায় কতজনকে আসামী করা হয়েছে তা জানা নেই; শুনেছি পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করেছে।
গত রোববার মামলাটি রেকর্ড করার পর প্রধান আসামি মো: রাফিকে (২৬) গ্রেফতার করা হয়। সোমবার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
মামলা প্রসঙ্গে বগুড়ার প্রথম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি আশেকুর রহমানসুজন জানান, ওই ঘটনায় হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিটের ধারায় নয়; নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা নেয়া উচিৎ ছিল।
শিবগঞ্জ থানার ওসি মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, রাফি ওই নারীকে বিয়ে বা সংসার করার কথা অস্বীকার করেছে।
বগুড়া সদরের পলাশবাড়ি গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের মেয়ে স্বামী পরিত্যাক্তা শিল্পী খাতুন অভিযোগ করেন, তিনি ঠেঙ্গামারা এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনে শ্রমিকের কাজ করেন। সেখানে শিবগঞ্জ উপজেলার অনন্তবালা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে রড মিস্ত্রি মো: রাফির সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ৮-৯ মাস আগে তারা বিয়ে করেন এবং ঠেঙ্গামারা এলাকায় ভাড়া বাড়িতে দস্পতি হিসেবে বসবাস করছিলেন। স্বামী রাফি ১৫-২০ দিন ধরে তার খোঁজখবর না নেয়ায় তিনি শুক্রবার সকালে শিবগঞ্জের অনন্তবালা গ্রামে ঘর ভাড়ার টাকা নিতে রাফির বাড়িতে যান। তখন রাফি ও তার বাড়ির লোকজন জমি থেকে কপির গাছ উপড়ে তোলেন এবং তাকে চুরির অপবাদ দেন। এরপর তাকে জমিতে বাঁশের খুঁটির সাথে বেঁধে নির্যাতন করে।
এদিকে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ শিল্পীকে উদ্ধার করে থানায় আনে এবং ফসল চুরি ও নষ্ট করায় তাকে ভ্রাম্যমান আদালতে নেবার চেষ্টা করে। উপজেলা নির্বাহীক র্মকর্তা আলমগীর কবির ঘটনাটি জেনে নিয়মিত মামলা নিতে পুলিশকে পরামর্শ দেন। কিন্তু শিবগঞ্জ থানা পুলিশ অজ্ঞাত কারণে মামলা ও নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে ওই নারীকে ছেড়ে দেয়। রোববার সকালে শিল্পী খাতুনকে প্রকাশ্যে জমির মধ্যে বাঁশের খুঁটির সাথে বেঁধে রেখে নির্যাতনের ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।