বাংলা হেডলাইনস টাঙ্গাইল: ইসলাম ধর্ম নিয়ে এবং মহানবী (সা:) সম্পর্কে আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতারকৃত শরিয়ত সরকার বয়াতিকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে আজ মঙ্গলবার টাঙ্গাইল জেল হাজতে পাঠিয়েছে মির্জাপুর থানা পুলিশ।
বিকাল ৩টার দিকে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে (মির্জাপুর) উঠালে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক আকরামুল ইসলাম।
আসামি পক্ষের আইনজীবী জিনিয়া বক্স বলেন, ‘মহানবী (সা.) ও ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে শরিয়ত বয়াতির বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। তিনদিনের রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার দুপুরে তাকে আদালতে উঠালে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিচারক আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি এই মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছেন। ওইদিন শরিয়ত বয়াতির জামিন আবেদন করা হবে। আশা করছি ওইদিন তার জামিন মঞ্জুর হবে।’
শুক্রবার রাতে ময়মনসিংহের ভালুকা সিডস্টোর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সায়েদুর রহমান বলেন। শরিয়ত বয়াতি মির্জাপুর উপজেলার আগধল্যা গ্রামের মৃত পবন সরকারের ছেলে।
জানা গেছে, গত ২৪ ডিসেম্বর ঢাকার ধামরাই উপজেলার রৌহাট্টেক পীর এ কামেল হযরত হেলাল শাহ’র ১০ম বাৎসরিক মিলন মেলা ২০১৯ উপলক্ষে আয়োজিত বয়াত গান অনুষ্ঠানে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে নবী রাসুল ও ইমামদের নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য দেন শরিয়ত বয়াতী । এতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এছাড়া শরিয়ত বয়াতিকে গ্রেফতারের দাবিতে বয়াতির নিজ এলাকায় কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভ সমাবেশও হয়।
শরিয়ত বয়াতির বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নিতে আগধল্যা গ্রামের জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা ফরিদুল ইসলাম মির্জাপুর থানায় মামলা করলে শুক্রবার রাতে ময়মনসিংহের ভালুকা সিডস্টোর এলাকা থেকে শরিয়ত বয়াতিকে গ্রেফতার করা হয়।
শনিবার শরিয়তকে মির্জাপুর থানা পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে টাঙ্গাইল কোর্টে হাজির করলে বিচারক ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শরিযত বয়াতিকে গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়লে তার অনুসারি শতাধিক নারীপুরুষ মির্জাপুর থানায় ভিড় জমান তাকে দেখতে।
মঙ্গলবার তাকে দেখতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বাউল শিল্পি এবং তার পরিবারের সদস্যসহ গ্রামের লোকজন মির্জাপুর থানায় আসেন।
শরিয়ত বয়াতির ভাই মারফত সরকার বলেন আমার ভাই একজন মাটির মানুষ। সে একজন ধর্মপ্রাণ মুসলমান। তাই নবী রাসুল এবং ধর্ম সম্পর্কে সে আপত্তিকর কথা বলতে পারেনা।
শরিয়ত বয়াতীকে দেখতে আসা বাউল শিল্পি বাবলি দেওয়ান বলেন, মানুষ ভুলের উর্ধে নয়। হয়তবা শরিযত সরকারের বেলায় তাই হতে পারে।
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সায়েদুর রহমান বলেন শরিয়ত বয়াতি তার আপত্তিকর বক্তব্যের জন্য অনুতপ্ত। তিনদিনের রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার তাকে টাঙ্গাইল জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।