বাংলা হেডলাইনস: স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম বলেছেন, কৃষকদের দারিদ্র্য বিমোচন ও অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনে আধুনিক পদ্ধতিতে ‘সমাজভিত্তিক এন্টারপ্রাইজ’এর মাধ্যমে চাষাবাদ পরিচালনা করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন যান্ত্রিকীকরণের চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবেলা করে আধুনিক চাষ ব্যবস্থা প্রবর্তনের মডেল উদ্ভাবনের লক্ষ্যে ‘কৃষির যান্ত্রিকীকরণ ও যৌথ খামার ব্যবস্থাপনা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এই পদ্ধতিতে খণ্ড খণ্ড জমিকে ডিজিটাল ভূমি জরিপের মাধ্যমে আইল ঊঠিয়ে দিয়ে বৃহদাকার জমিতে একই ও বিভিন্ন জাতের ফসলের চাষাবাদ ও শস্য উৎপাদন করা হচ্ছে। আধুনিক এ পদ্ধতিতে কৃষকদের নিয়ে গঠিত একটি‘সমাজভিত্তিক এন্টারপ্রাইজ’ এর মাধ্যমে চাষাবাদ পরিচালনা করা হচ্ছে।
শুক্রবার কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলার নোয়াপাড়ায় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) কর্তৃক গৃহীত ‘কৃষির যান্ত্রিকীকরণ ও যৌথ খামার ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধন এবং স্থানীয় কৃষকদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সমবায়মন্ত্রী এ কথা বলেন।
বার্ড, কুমিল্লা কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের আওতায় ডিজিটাল ভূমি জরিপের মাধ্যমে লাকসাম উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নের নোয়াপাড়া ও ছনগাঁও গ্রামের যৌথ খামার প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী ৭৫ জন কৃষকের ৪০ একর কৃষিজমির সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্বাচিত ৪০ একর কৃষিজমির ১৪১টি প্লটের আইল উঠিয়ে একত্র করে চলমান বোরো মৌসুমে ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে ধান রোপণ করা হচ্ছে।
গত ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে বার্ড, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়, লাকসাম এবং নোয়াপাড়া-ছনগাঁও যৌথ কৃষি খামার কমিউনিটি এন্টারপ্রাইজের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নে একটি বহুপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির আওতায় বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ বার্ড কৃষকদের উচ্চ ফলনশীল ধানবীজ, কৃষিযন্ত্র সহায়তা এবং যৌথ খামার ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে, যৌথ খামারের জমির মালিকগণ কমিউনিটি এন্টারপ্রাইজ ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষিকাজ পরিচালনা করছে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি অফিস সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করছে, পিআইডি’র এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন জমির আইল উঠিয়ে সমবায়-ভিত্তিক চাষাবাদ কৃষকদের দারিদ্র্য বিমোচন ও অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনে ভূমিকা রাখবে। এ ধরনের চাষাবাদ পদ্ধতি ১৯৭৫ সালেই বঙ্গবন্ধু পরিকল্পনা করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর দর্শনই সরকার আজ বাস্তবায়ন করছে।
মন্ত্রী বলেন, সনাতন পদ্ধতিতে চাষাবাদের ফলে সরকারের সব ধরনের ভর্তুকির পরও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কৃষকরা তাদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। এ পরিস্থিতিতে কৃষির উৎপাদন ব্যয় হ্রাসের উপায় উদ্ভাবন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছিল।
স্থানীয় মন্ত্রী বলেন আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার করে যৌথ খামার প্রতিষ্ঠার ফলে কৃষিপণ্যের উৎপাদন খরচ হ্রাস পাবে এবং কৃষি হবে কৃষকের জন্য একটি লাভজনক জীবিকা। এছাড়াও পরীক্ষামূলক এ প্রকল্পটি একটি উন্নয়ন মডেল হিসাবে দাঁড়াবে এবং কৃষিতে আরেকটি নতুন বিপ্লব সূচিত হবে।
স্থানীয় চেয়ারম্যান ওমর ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মোঃ রেজাউল আহসান এবং কুমিল্লা বার্ডের মহাপরিচালক মোঃ শাহজাহান।