বাংলা হেডলাইনস বগুড়া: বগুড়ায় ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি কেনাবেচা কোনভাবেই বন্ধ হচ্ছেনা। দিনরাত এক্সকাভেটিং মেশিন দিয়ে মাটি কেটে ট্রাক ভর্তি করে বিভিন্ন ইটভাটা ও ঠিকাদারের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা কৃষকের কাছে স্বল্পমূল্যে এ মূল্যবান মাটি কিনে উচ্চ দরে বিক্রি করে আঙুল ফুলে কলা গাছ হলেও জমিগুলো উর্বরতা শক্তি হারাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, তারা স্থানীয় প্রশাসন, সাংবাদিক ও মস্তানদের ম্যানেজ করেই এ ব্যবসা করে আসছেন।
সচেতন জনগণ জমির উর্বর মাটি কেনাবেচা বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বগুড়ায় জেলায় মোট ২১৯টি ইটভাটা রয়েছে। এসব ভাটায় ইট তৈরির জন্য প্রচুর মাটির প্রয়োজন হয়। ভাটা মালিকরা অধিকাংশ মাটি ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে কিনে থাকেন। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অন্তত দেড় হাজার মাটি ব্যবসায়ী কৃষকদের কাছে তাদের জমির মূল্যবান উপরিভাগ কেনেন।
এছাড়াও বিভিন্ন নির্মাণ কাজের ঠিকাদার ও সাধারণ জনগণ নিচু জায়গা ভরাটে মাটি কিনে থাকেন। এর মধ্যে শাজাহানপুর, সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলায় ইটভাটার সংখ্যা বেশি। শাজাহানপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৫০টি ভাটা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার সাজাপুর, রামচন্দ্রপুর, কাজীপুর, নন্দগ্রাম, বলদিপালান, চকজোড়া, বামুনিয়াসহ বিভিন্ন গ্রামে কৃষকদের ফসলি জমির মাটি কেনাবেচা হয়। ব্যবসায়ীরা কৃষকদের কাছে স্বল্পমূল্যের জমির উপরিভাগের মাটি কিনে নিয়ে উচ্চ দরে ভাটা ও অন্যান্য স্থানে বিক্রি করেন। এর মধ্যে সাদা মাটির মূল্য বেশি।

ব্যবসায়ীরা কৃষকদের কাছে প্রতি শতক জমিতে ফুট হিসেবে মাটি কেনেন। এক্সকাভেটিং মেশিন দিয়ে মাটি কেটে তা ট্রাকে তুলে বিক্রি করা হয়। এতে অনেক ফসলি জমি পুকুরে পরিণত হচ্ছে। সেখানে মাছ চাষ করা হয় এবং জমির শ্রেণী পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা স্থান ও এলাকাভেদে কৃষকদের কাছে প্রতি শতক জমি থেকে এক ফুট মাটি ৫০০ টাকা থেকে ১৪শ’ টাকায় কেনেন। কৃষকরা চার ফুট মাটি বিক্রি করলেও ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাতে পাঁচ ফুট কেটে নেন। এক শতক জমি থেকে এক ফুট পরিমাণ মাটি ৪-৫ ট্রাক হয়। কোন কোন জমির মাটি ২-৩ বার বিক্রি করায় ১৫ থেকে ২০ ফুট পর্যন্ত গভীর হয়েছে। এতে পার্শ্ববর্তী জমিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাধ্য হয়ে তারাও জমির মাটি বিক্রি করে দেন।
শাজাহানপুরের বনানী এলাকার মাটি ব্যবসায়ী হোসেন আলী জানান, তিনি এ উপজেলার মালিপাড়া, মাদলাসহ বিভিন্ন এলাকার জমি থেকে মাটি কিনে থাকেন।
তিনি আরো জানান, শাজাহানপুর উপজেলা থেকে ভাটা উচ্ছেদ শুরু হওয়ায় বর্তমানে তার ব্যবসা মন্দা যাচ্ছে।
অপর ব্যবসায়ী বনানীর সাইদুর রহমান জানান, বগুড়া জেলায় প্রায় দেড় হাজার মাটি ব্যবসায়ী রয়েছেন। তার বিভিন্ন স্থানের ইটভাটা, ঠিকাদার, নির্মাণ কাজ ও ভরাট কাজে মাটি বিক্রি করে থাকেন।
তিনি দাবি করেন, স্থানীয় উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসন এবং সাংবাদিকদের নামে তাদের কাছে চাঁদা নেয়া হয়।
পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক শাজাহানপুর উপজেলার মাগলা এলাকার কয়েকজন কৃষক জানান, তারা সংসারের প্রয়োজনেই জমির উর্বর মাটি বিক্রি করে থাকেন।
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবুল কাশেম আজাদ জানান, ফসলি জমিতে ১-৬ ইঞ্চির মধ্যে উর্বরতা শক্তি থাকে। তবে কোন কোন ফসল আরও গভীর থেকে উর্বরতা শক্তি নেয়। জমির উপরিভাগের মাটি বিক্রি নিষেধ থাকলেও এ ব্যাপারে কোন আইন না থাকায় কৃষকদের বাধা দেয়া সম্ভব হয়না। তাদেরবুঝিয়েও লাভ হচ্ছেনা।
বগুড়ায় পরিবেশ অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মো: আশরাফুজ্জামান জানান, জমির টপসয়েল কাটা বন্ধে মোবাইল কোর্টের অভিযান চলমান রয়েছে। এর আগে শাজাহানপুর থানায় মামলাও হয়েছে। কিন্তু ব্যবসায়ীরা রাতের আঁধারে গোপনে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ায় বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছেনা। এরপরও রাতে অভিযান চালানোর ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা চলছে।