বাংলা হেডলাইনস টাঙ্গাইল: সৌদি আরবের বন্দরনগরী জেদ্দায় সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত টাঙ্গাইলের আল আমিনের স্ত্রী বিলকিসের আর্তনাদ ‘নেই সন্তান আবার এখন হারালাম স্বামী’ ভারি হয়ে আসছিল আকাশ বাতাস।
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নাগবাড়ী ইউনিয়নের আউলাতৈল গ্রামের ফরহাদ আলী ও ফিরোজা বেগমের একমাত্র ছেলে নিহত আল আমিন (৩০) জেদ্দার ইয়ামামা নামের একটি ক্লিনিং কোম্পানীতে গাড়ী চালক পদে কর্মরত ছিলেন।
আল আমিনের তরুণী স্ত্রী পার্শ্ববর্তী আউলিয়াবাদ গ্রামের মেয়ে বিলকিস বেগম জানান, বুধবার রাতে সৌদিতে বসবাসরত তার স্বামী আল আমিন সড়ক দূর্ঘটনায়
নিহত হওয়ার খবর বাড়িতে আসে। গত ৫ বছর আগে ছুটিতে এসে পারিবারিকভাবে আল আমিনের সাথে বিয়ে হয় তার। কিছুদিন ছুটি কাটিয়ে ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় পুনরায় সৌদিতে পাড়ি জমান আল আমিন। বিয়ের বছর পাঁচটি গেলেও হননি তারা সন্তানের বাবা মা। এছাড়াও আল আমিনই ছিল তাদের একমাত্র ভরসা। তার বাবা মা অসুস্থ থাকায় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি তার দেশে ফেরার কথা ছিলো। আমাদের ৩ লাখ টাকা ঋণও রয়েছে। তাকে হারিয়ে আমরা খুবই অসহায়। এখন আমাদের কে দেখবে?
আল আমিনের পরিবারে স্ত্রী বিলকিস ছাড়াও রয়েছে আল আমিনের বাবা মা আর বড় একটি বোন। আল আমিনের এই অকালমৃত্যুতে পরিবারসহ গ্রাম জুড়ে বইছে শোকের মাতম।
বিলকিস আরো বলেন, আমি স্বামীকে আর পাব না, তবে আমার স্বামীর লাশটি শেষবারের মতো যেন দেখতে পাই। তিনি দ্রুত সৌদিতে নিহত তার স্বামী আল আমিনের মরদেহটি পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
নাগবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আব্দুস সালাম মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কৃষক পরিবারের সন্তান আলামিনরা দুই-ভাই বোন। সে খুব শান্ত প্রকৃতির ছেলে ছিলো । পরিবারে দারিদ্রতা দূর করতে আলামিন ১১ বছর আগে সৌদি আরবে যান। আল আমিন পাশের গ্রাম আওয়ালিয়াবাদে বিয়ে করে। তাদের কোন সন্তানাদি হয়নি।
উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার দুপুরে জেদ্দার হাই আল সামির এলাকায় সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত হন আল আমিনসহ তিন বাংলাদেশী। দুর্ঘটনার পর সৌদি রেড ক্রিসেন্ট কর্তৃপক্ষ, সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সিভিল ডিফেন্সের জরুরী দল ঘটনাস্থল যায়। নিহতদের মরদেহ কিং আব্দুল আজিজ হাসপাতালে হিমঘরে রাখা হয়েছে।