বাংলা হেডলাইনস বগুড়া: বগুড়ার ধুনটে ধর্ষণে জন্ম দেয়া শিশুর কিশোরী মায়ের মামলায় পুলিশ ‘ধর্ষকের’বাবা ফজলু মিয়া ও নিমগাছী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজাহার আলী পাইকারকে গ্রেফতার করেছে। ওই কিশোরী সোমবার সন্ধ্যায় ধুনট থানায় ধর্ষক মেহেদী হাসান, তার বাবা ও চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা করে। ধুনট থানার ওসি ইসমাইল হোসেন এর সত্যতা নিশ্চিত করে জানান রাতেই তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
অভিযোগে জানা গেছে, ধুনট উপজেলার নিমগাছী ইউনিয়নের বেড়েরবাড়ি পাইকারপাড়ার এক কিশোরীকে (১৬) প্রতিবেশি ফজলু মিয়ার ছেলে মেহেদী হাসান প্রেমের প্রস্তাব দেয়। প্রায় ১০ মাস আগে বাড়িতে কেউ না থাকায় মেহেদী ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করে। কিশোরী কান্নাকাটি করলে সে তাকে বিয়ের প্রলোভন দেয়। এরপর বেশ কয়েকদিন তাকে ধর্ষণ করা হয়। এক পর্যায়ে কিশোরী অন্ত:স্বত্ত্বা হয়ে পড়ে। মেহেদী ও তার পরিবার ঘটনাটি অস্বীকার করেন।
পরে কিশোরীর পরিবার স্থানীয় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মাতবরদের কাছে বিচার দাবি করেন। কিন্তু তারা বিচারের নামে কালক্ষেপন করেন। এমনকি তাদের আইনেরআশ্রয় নেবার সুযোগও দেয়া হয়নি।
এ অবস্থায় গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ওই কিশোরী বাড়িতে মেয়ে শিশু প্রসব করে। দ্রুত ঘটনাটি পুরো গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। গ্রামের লোকজন মীমাংসার চেষ্টা করলেও মেহেদী ও তার পরিবার বিষয়টি অগ্রাহ্য করে। লোকলজ্জা থেকে বাঁচতে মেহেদীর বিচার ও শিশুটির পিতৃ পরিচয়ের দাবিতে কিশোরী তার মায়ের সাথে সোমবার বিকালে ধুনট থানায় আসে।
ধর্ষিতা কিশোরীর মা বলেন, ধর্ষণের কথা জানাজানি হলে আমরা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও গ্রাম্য মাতব্বরদের কাছে বিচার দেই। কিন্তু তারা দীর্ঘদিনেও কোন বিচার করে দিতে পারেনি। এমনকি কিছু মাতব্বর আমাদের ভয়ভীতিও দেখিয়েছেন। তবে নিমগাছী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজাহার আলী পাইকার বলেন, বাচ্চা জন্ম হওয়ার দু’দিন আগে ধর্ষণের ঘটনা জানতে পেরেছেন। তাই তাদের আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
এদিকে সন্ধ্যার পর ওই কিশোরী ধুনট থানায় ধর্ষক মেহেদী হাসান, তার বাবা ফজলু মিয়া ও নিমগাছী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজাহার আলী পাইকারের বিরুদ্ধে মামলা করে। রাতেই পুলিশ নিজ নিজ এলাকা থেকে ফজলু মিয়া ও আজাহার আলী পাইকারকে গ্রেফতার করে। ওসি ইসমাইল হোসেন জানান, মূল আসামি মেহেদী হাসানকেও শিগগিরই গ্রেফতার করা হবে। এছাড়া ভিকটিমের বয়স নির্ধারনসহ অন্যান্য বিষয়ে তার ডাক্তারী পরীক্ষা করানো হবে।
এছাড়া ওই কিশোরী ও তার সন্তানের চিকিৎসা এবং নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।