বাংলা হেডলাইনস সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে এক রাতে ৬টি বাল্যবিয়ে বন্ধ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক সেই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিসুর রহমান।
ইতিমধ্যে শতাধিক বাল্যবিয়ে বন্ধ করে সরকারের কাছ থেকে একাধিকবার পুরস্কারও পেয়েছেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিসুর রহমান।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিসুর রহমান জানান, সদর উপজেলার ধীতপুর কানু গ্রামে আবু সামা শেখের মেয়ে জান্নাতি খাতুনের (১৪) বিয়ের আয়োজন চলছিল শুক্রবার বিকেল থেকে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সন্ধ্যার আগে অভিযান চালিয়ে বিয়ে বন্ধ এবং কনের বাবা আবু সামা শেখকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এরপর সন্ধ্যায় কাদাই গ্রামে ছানোয়ার হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তার ৭ম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ের আফরোজা খাতুনের (১৩) বাল্যবিয়ে বন্ধ করা হয়।
সন্ধ্যার পরে বাগবাটি দক্ষিণ পাড়ার আবু হানিফের মেয়ে সুবর্ণা খাতুনের (১৬) সঙ্গে ব্রাহ্মণগাঁতী গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে আজিজল হকের বিয়ের আয়োজন চলছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালিয়ে বাল্যবিয়ে বন্ধ করা হয়। এ সময় কাজী রেজাউল করিমকে ৫০ হাজার, বর আজিজল হককে ৫ হাজার ও কনের ভগ্নিপতি খোকন মিয়াকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
শুক্রবার রাতে শিবনাথপুর গ্রামের আকতার হোসেনের মেয়ে স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্রী আতিয়া খাতুনের (১৪) সঙ্গে খামার পাইকোশা গ্রামের মৃত আকবর আলীর ছেলে ইউসুফ আলীর (২৫) বাল্যবিয়ে বন্ধ করা হয়। এ সময় বর-কনের বাবাকে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। এরপর কানগাঁতী গ্রামের হাফিজুলের মেয়ে ১০ম শ্রেণির ছাত্রী নুপুর (১৫) ও নান্দিনা গ্রামের আকবর আলীর ছেলে ইমরানের (২৩) বাল্যবিয়ে বন্ধ করা হয় এবং বর ও কনের বাবাকে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। সবশেষে মালিগাঁতী গ্রামের ছানোয়ার হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তার ৭ম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে লিমা খাতুনের (১২) বাল্যবিয়ে বন্ধ ও কনের বাবাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
প্রত্যেক অভিযানে মেয়েকে ১৮ বছরের নীচে বিয়ে দেবেন না মর্মে অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিসুর রহমান।