বাংলা হেডলাইনস বগুড়া: বগুড়ার গাবতলীতে গরিবের চাল আত্মসাতের চেষ্টা প্রমাণ হওয়ায় মহিষাবান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ওয়াজেদ হোসেনের খাদ্য অধিদপ্তরের ডিলারশীপ বাতিল করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির রিপোর্টে সত্যতা পাওয়ায় বুধবার উপজেলা খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
এছাড়া তার ডিলারশীপের জামানত বাজেয়াপ্ত এবং ১০০ বস্তা চালের দ্বিগুণ মূল্য প্রায় সোয়া দুই লাখ টাকা আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।
গাবতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং ওই কমিটির সভাপতি রওনক জাহান এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
অভিযোগে জানা গেছে, গত ৭ এপ্রিল গাবতলী উপজেলার মহিষাবান ইউনিয়নে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি শুরু হয়।
ডিলার ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ওয়াজেদ হোসেন চাল বিক্রির কিছু ভুয়া মাস্টাররোল তৈরি করেন। মহিষাবান ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ টের পেয়ে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেন।
নির্বাহী কর্মকর্তা রওনক জাহান চাল বিক্রি বন্ধ করে দেন।
তিনি এলএসডিতে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, ডিলার ওয়াজেদ হোসেন ১০০ বস্তা (তিন টন) চাল গুদাম থেকে উত্তোলন করেননি। তিনি এ চাল বিক্রি দেখিয়ে ভুয়া মাস্টাররোল তৈরি করেছেন।
সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভ্রাম্যমান আদালতে গরিবের চাল আত্মসাতের চেষ্টার অপরাধে ডিলার ওয়াজেদ হোসেনকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এছাড়া উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও খাদ্যবান্ধব কমিটির সদস্য সচিব হারুন অর রশিদ জানান, মঙ্গলবার পাওয়া ওই তদন্ত রিপোর্টে ডিলার ওয়াজেদ হোসেন ভুয়া মাস্টাররোল তৈরি করে ১০০ বস্তা চাল আত্মসাতের চেষ্টার সত্যতা মিলেছে। বুধবার খাদ্যবান্ধব কমিটির সভায় সর্বসম্মতিতে তার ডিলারশীপ বাতিল ও জামানত ২০ হাজার টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।