বাংলা হেডলাইনস সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার নওখাদা নামকস্থানে করোনাভাইরাস আতংকের মধ্যেও চলছে জমজমাট জুয়ার আসর। এ জুয়ার আসরে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকার জুয়া খেলা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে।
এ প্রচারণা উপেক্ষা করে উল্লেখিতস্থানে জুয়ার আসর বসায় জনমনে আতংকের সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়রা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে নওখাদা নামকস্থানে এই জুয়ার আসর চলছে অবাধে। এ জুয়ার আসরে এলাকার কিছু সংখ্যক লোকসহ খেলতে আসে ঢাকা ও নারায়গঞ্জ হতে ফেরত শ্রমিকেরাও। এ জুয়ার আসরে আসা বহিরাগতদের কারণে এলাকাবাসী করোনা ঝুঁকির আতঙ্কেও রয়েছেন।
এছাড়া বিন্নাবাড়ি, সবুজপাড়া, তালম ও গুরমাসহ আরো পাঁচটি পয়েন্টে চলে এরকম জুয়ার আসর। এসব জুয়ার আসরে পার্শ্ববর্তী নাটোরের গুরুদাসপুর এলাকারও কিছু লোকজন এ জুয়ার আসরে খেলতে আসে।
এদিকে সম্প্রতি এ রকম একটি জুয়ার আসরের ভিডিও ভাইরাল হলে স্থানীয় এমপি অধ্যাপক আব্দুল আজিজ তাড়াশ থানার ওসিসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে ডাকা এক বৈঠকে কড়া হুশিয়ারি উচ্চারণ করে জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন।
কিন্তু বেশকিছু দিন পার হলেও এখনো চলছে জুয়ার আসর। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় দলীয় একাধিক নেতা আক্ষেপ করে বলেন, রাজনীতি করি বলে অনেক কথা মুখ ফুটে বলতে পারি না। কিন্ত বাস্তব চিত্র হচ্ছে এখানে প্রতিদিন বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হাজার হাজার টাকার জুয়া খেলা হচ্ছে।
এতে এলাকার উঠতি বয়সের ছেলেরাসহ অনেকেই এ খেলায় মেতে নি:স্ব হচ্ছে। এমনকি এ জুয়া খেলা অব্যাহত থাকায় মাদকেরও বিস্তার লাভ করেছে। ইতিমধ্যেই স্থানীয় এক ব্যক্তি এই জুয়া খেলা বন্ধে প্রশাসনের কাছে প্রতিকার চেয়ে একটি লিখিত আবেদন করেছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হেল বাকী এপ্রতিবেদককে বলেন, এমন অভিযোগ পেয়েছি। চৌকিদার ও পুলিশ দিয়ে সেখানে অভিযানের আগেই জুয়াড়িরা পালিয়ে যায়। তবে জুয়া বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তাড়াশ থানার ওসি মাহবুবুল আলম বলেন, এমন অভিযোগ পাওয়ার পর সেখানে একাধিকবার অভিযান চালানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই এক জুয়াড়িকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
করোনাভাইরাস সংক্ররমণ প্রতিরোধে ব্যস্ত থাকায় এখন অনেক কিছুই দেখা সম্ভব হচ্ছে না। তবে ওই জুয়া বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।