বাংলা হেডলাইনস বগুড়া : বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল আইসোলেশন ইউনিটে করোনা উপসর্গ নিয়ে ভর্তির পর রোববার রাতে সাতমাসের অন্ত:সত্ত্বা এক গৃহবধু (১৯) মারা গেছেন।
সোমবার সকালে নওগাঁর বদলগাছি উপজেলার তাজপুরে গ্রামবাসীদের বাধার মুখে পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্সের চালক ও স্ট্রেচারের একজন একটি খাস জমিতে তার লাশ দাফন করেছেন। এ নিয়ে বগুড়া আইসোলেশনে ১১ জনের মৃত্যু হলো।
বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শফিক আমিন কাজল এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল আইসোলেশন ইউনিট সূত্র জানায়, ওই গৃহবধুর শশুরবাড়ি ঢাকায়। তিনি নওগাঁর বদলগাছি উপজেলার বিলাসবাড়ি ইউনিয়নের তাজপুর গ্রামের মো: মাসুদের মেয়ে। তিনি ৫দিন আগে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।
ওই গৃহবধু জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ৩১ মে রাত সাড়ে ৮টার দিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি হতে আসেন। করোনাভাইরাসের উপসর্গ থাকায় সেখান থেকে রাত ৯.২০ মিনিটে মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল আইসোলেশন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়।
অবস্থার অবনতি হলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে মারা যান।
কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন বগুড়ার অর্গানাইজার মিজানুর রহমান জানান, রাতেই তার সংগঠনের মহিলা স্বেচ্ছাসেবকসহ ৬ জনের টিম মৃতদেহকে ধর্মীয় বিধি অনুসারে দাফনের জন্য প্রস্তুত করেন।
এরপর হাসপাতাল চত্বরে জানাযা সম্পন্ন করা হয়। পরে দাফনের জন্য হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সে বাপের বাড়ি নওগাঁর বদলগাছির তাজপুর গ্রামে পাঠানো ব্যবস্থা করা হয়।
ডা. কাজল জানান, মৃত নারী সাত মাসের অন্ত:সত্ত্বা ছিলেন। তার শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।
মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হলেও গ্রামবাসীরা লাশ দাফনে বাধা দেয়। গৃহবধুর মা নিজ ভিটায় দাফনের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।
সোমবার সকাল ৭টার দিকে বদলগাছি থানার এসআই আরিফুল ইসলাম, অ্যাম্বুলেন্সের চালক জাহিদুর রহমান ও স্ট্রেচারের রানা মিয়া বাড়ি থেকে দূরে রাস্তার পাশে খাস জমিতে দাফন করেছেন। এসআই আরিফুল ইসলাম জানান, করোনাভাইরাসের কারণে গ্রামাবাসীরা লাশ দাফনে বাধা দেন।