বাংলা হেডলাইনস বগুড়া : করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার বগুড়ায় দুই মুক্তিযোদ্ধাসহ তিনজন মারা গেছেন।
কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন বগুড়ার স্বেচ্ছাসেবীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে দু’জনের জানাযা ও নিজ নিজ এলাকায় দাফন করেছেন। অপরজনের লাশ জানাযা শেষে বিশেষ ব্যবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সে গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রামের চিলমারীতে পাঠানো হয়েছে।
কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন বগুড়ার অর্গানাইজার মিজানুর রহমান এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ ও রফাতউল্লাহ কমিউনিটি হাসপাতালের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, টিএমএসএসের উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেন (৭২) করোনা উপসর্গ নিয়ে গত ২ জুন বেলা আড়াইটার দিকে ভর্তি হন। এ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় তার শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তিনি মারা যান।
এছাড়া বগুড়া শহরতলির ঠেঙ্গামারা তালুকদারপাড়ার বাসিন্দা ও টিএমএসএসের নির্বাহী পরিচালক প্রফেসর ড. হোসনে আরার ‘জা’ (স্বামীর ভাবী) জাহেদা বানু (৯৩) করোনা উপসর্গে আক্রান্ত হন। তাকে গত ৩ জুন রাত ১১টায় একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নমুনা পরীক্ষায় তিনি করোনা পজিটিভ হন।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় তিনি মারা যান।
বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শফিক আমিন কাজল জানান, শহরের লতিফপুর কলোনী এলাকার মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম (৭০) অসুস্থ হয়ে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে আসেন। তার নমুনায় করোনা সনাক্ত হয়।
তিনি আবারো অসুস্থ হয়ে পড়লে শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে তাকে আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। বেলা পৌণে ২টার দিকে তিনি মারা যান।
কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন বগুড়ার অর্গানাইজার মিজানুর রহমান জানান, শুক্রবার বিকাল ৪টার দিকে মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেনের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি গাবতলী উপজেলার লাঠিমারঘর গ্রামের পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়।
জানাযার জন্য পাশের মসজিদের ইমাম ও মোয়াজ্জিনকে ডাকা হলে তারা ভয়ে পালিয়ে যান। পরে ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবীরা জানাযা করেছেন।
স্বেচ্ছাসেবীরা বাদ আসর শহরতলির ঠেঙ্গামারা তালুকদারপাড়ায় জানাযা শেষে মৃত জাহেদা বানুকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করেন।
এছাড়া সন্ধ্যার আগে মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল চত্বরে মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলামের জানাযা করা হয়। পরে তার লাশ দাফনের জন্য কুড়িগ্রামের চিলমারীতে পাঠানো হয়েছে।