বাংলা হেডলাইনস : প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেন ভয় পাওয়ার কিছু নেই মরতেতো একদিন হবেই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনাভাইরাসে, গুলি খেয়ে অথবা অসুস্থ হয়ে মরি, মরতেতো একদিন হবেই। এই মৃত্যু যখন অবধারিত সেটাকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমি ভয় পাইনি। কখনো ভয় পাবো না।’
শেখ হাসিনা সংসদ অধিবেশনে প্রয়াত সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান মোল্লার মৃত্যুতে গৃহীত শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে একথা বলেন।
শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় বিরোধীদলের চীফ হুইপ জাতীয় পার্টির মশিউর রহমান রাঙ্গা করোনার কারণে প্রধানমন্ত্রী সংসদে না এসে ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে অধিবেশনে অংশ নিতে পারেন বলে মত দেন।
প্রধানমন্ত্রী এ প্রস্তাবের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে করোনাভাইরাস কিংবা বুলেট কোন মৃত্যু ভয়েই তিনি ভীত নন বলে দৃপ্ত কন্ঠে সকলকে জানিয়ে দেন।
সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর সরকার সমাজের সকল শ্রেণী এমনকি যারা অবহেলিত এবং অগোচরে থেকে যায় তাঁদেরও যাতে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে কোন কষ্ট না হয় তা নিশ্চিত করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘যাঁরা সমাজের সকলের দৃষ্টিগোচর হয় না, অগোচরেই থেকে যায় সেই বিশাল জনগোষ্ঠীর দুঃখ-কষ্টও যাতে একটু লাঘব করা যায় সেজন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি। তাদের কাছে কিছু (খাবার) পৌঁছে দেয়া এবং তাদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ ধরণের প্রতিটি মানুষের খবর নিয়ে তাদের ঘরে খাবার পৌঁছানো, তাদের বাড়িতে কিছু নগদ টাকার ব্যবস্থা করা, এমনকি এতিমখানা ও মসজিদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গার মানুষ এমনকি রিকশার পেছনে যারা চিত্র এঁকে জীবিকা নির্বাহ করে, সাংস্কৃতিক কর্মী বা সাংবাদিক প্রত্যেককে খুঁজে খুঁজে বের করে আমরা সাহায্য করছি।’
শিল্পীদের পাশাপাশি সহ-শিল্পীদেরকেও যেন সহায়তা দেয়া হয় সেজন্য তাঁর সরকার ইতোমধ্যেই তথ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত সাংসদদের জন্য জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজা অনুষ্ঠানের অতীত রেওয়াজ স্মরণ করে আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমাদের অনেক বর্তমান ও সাবেক সংসদ সদস্য এবং বিশিষ্ট নাগরিকরা চলে গেলেন যাঁদের জানাযাও আমরা পড়তে পারলাম না। তাঁদেরকে আমরা দেখতে যেতে পারিনি। শোকসন্তপ্ত পরিবারের কাছে যে যাব বা তাদের ডেকে এনে যে একটু সহানুভূতি জানাব, সেটাও করতে পারিনি।’
শোক প্রস্তাবের উপর আলোচনা শেষে মৃতদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে মোনাজাত করা হয়। এর আগে তাদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সূত্র: বাসস