বাংলা হেডলাইনস টাঙ্গাইল : বর্তমান বিশ্বে মহামারী আকার ধারণ করা করোনা ভাইরাস হোমিওপ্যাথির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব বলে দাবি করেছেন টাঙ্গাইলের অনেক হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক ।
টাঙ্গাইল জেলায় প্রায় ৪০ লক্ষ লোকের বাস । এ পর্য্ন্ত জেলায় ৩২৯ জন আক্রান্ত হয়েছে ও ৬ জন মারা গেছেন ।
জেলার বিভিন্ন হোমিওপ্যাথির দোকানগুলিতে করোনা উপসর্গ্ নিয়ে প্রচুর লোকজন আসছে চিকিৎসার জন্য । হোমিও চিকিৎসকরাও ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে তাদের চিকিৎসা নিয়ে ।
জেলা শহরের অন্যতম মজিদ হোমিও হল, আব্দুল্লাহ হোমিও হল, টাঙ্গাইল হোমিও রিসার্চ্ সেন্টার, মমতাজ হোমিও হল, সদর উপজেলার করটিয়ার শিফা হোমিও হল, মির্জাপুর উপজেলা শহরের জীবন হোমিও ফার্মেসী, ঘাটাইল উপজেলা শহরের সুমি হোমিও হল, মধুপুর উপজেলা শহরের জার্মান হোমিও হল, ভুয়াপুর উপজেলা শহরের তরফদার হোমিও হলসহ সব স্থানেই করোনা উপসর্গ্ নিয়ে আসা মানুসের চিকিৎসা প্রদান করছে ।
টাঙ্গাইল শহরের আদালত রোডে অবস্থিত মজিদ হোমিও হলের চিকিৎসক ডা: মজিবর রহমান জানান, করোনা উপসর্গ্ নিয়ে প্রচুর রোগী প্রতিদিনই তার চেম্বারে আসছে । বিশেষ করে জ্বর, সর্দি, কাশি নিয়ে আসা রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি । তবে তিনি সরাসরি কোন করোনা রোগীর চিকিৎসা প্রদান করেননি বলে জানান।
তবে তিনি বলেন যে, হোমিওপ্যাথির ব্রায়োনিয়া এল্বাম, জেলস ও আরর্সেনিকাম এলবাম ৩০/২০০ ওষুধ দিয়ে ৩-৪ দিনে করোনা রোগ দুর করা সম্ভব ।

মির্জাপুর শহরের জীবন হোমিও ফার্মেসীর চিকিৎসক ডা: শক্তিপদ ঘোষ জানান, হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা দিয়ে করোনা দুর করা সম্ভব এরকম দাবি আমি নিশ্চিত করে বলতে পারবো না ।তবে করোনা উপসর্গ্ নিয়ে প্রচুর রোগী আসছে । এছাড়াও অন্যান্য রোগীর সংখ্যাও বেড়ে গেছে ।
মমতাজ হোমিও হলের হোমিও চিকিৎসক ডা: সৈয়দ এমরান আলম জানান তার চিকিৎসায় মারুফ নামে একজন আর্কিটেকচার করোনামুক্ত হয়েছেন । এবং বতমানে তার বোনও করোনা লক্ষণ নিয়ে আমাদের চিকিৎসায় আছে ।
টাঙ্গাইল শহরের থানাপাড়া এলাকার টাঙ্গাইল হোমিও রিসার্চ্ সেন্টারে আসা একজন রোগী কামাল হোসেন জানান, গত ৪-৫ দিন ধরে জ্বর, সর্দি, কাশিতে ভুগছি । বিভিন্ন ক্লিনিকে গিয়েও কোন চিকিৎসক না পেয়ে বা্ধ্য হয়ে প্রতিবেশীর পরামর্শে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা নিতে এসেছি ।
আরেকজন রোগী রহিমা আক্তার জানান বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং ভাল আছেন ।
টাঙ্গাইল হোমিও মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা: সাহিদা আক্তার বলেন, আমারা লক্ষণভিত্তিক করোনা চিকিৎসা প্রদান করছি । এর ফলও ভাল পাচ্ছি । হোমিওপ্যাথির মাধ্যমে ডেঙ্গু রোগেরও নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে করোনা ভাইরাসের নিয়ন্ত্রণও হোমিওপ্যাথিতে সম্ভব।
এজন্য হোমিওপ্যাথির আরর্সেনিকাম এলবাম ৩০/২০০ ওষুধটি সেবনে আমরা প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস থেকে মুক্ত থাকতে পারব।পর পর তিন দিন সকালে খালি পেটে চার-পাঁচটি বড়ি (পিল) অথবা এক-দুই ফোটা ওষুধ সেবন করতে হবে।
তিনি বলেন, ভারতে হোমিওপ্যাথির জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় আছে । কিন্তু বাংলাদেশে এখনো এ বিষয়টা এত গুরুত্ব পায়নি । সরকারের উচিৎ হোমিওপ্যাথিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া ।