বাংলা হেডলাইনস বগুড়া: ‘আমি হৃদরোগী; হার্টের ভাল্ব মাত্র ২৪ শতাংশ কাজ করে। চিকিৎসক পেসমেকার বসাতে পরামর্শ দিয়েছেন। উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস রয়েছে ‘।
‘আম্মুর শরীর ভালো হলেও তিনি আমার সংস্পর্শে এসে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন। এ অসুস্থ শরীর নিয়ে ৪২ দিন যুদ্ধ করে আমি ও স্ত্রী সুস্থ হয়েছি। তাই করোনা আক্রান্ত হলেই আতংকিত হবার কিছু নেই। সঠিকভাবে চিকিৎসা ও নিয়ম মেনে চললে সবাই সুস্থ হয়ে উঠবেন’।
কথাগুলো বলছিলেন, করোনাভাইরাস থেকে সুস্থ হওয়া বগুড়ার সাবেক এমপি মোস্তাফিজার রহমান পটল ও সাবেক এমপি কামরুন্নাহার পুতুলের ছেলে রাহিদ মোস্তাফিজ (৫০)।
তিনি হার্টে পেসমেকার স্থাপনের জন্য গত ৮ মে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালের (সাবেক অ্যাপোলো) আইসিইউতে ভর্তি হন। শরীরে নানা উপসর্গ দেখা দেয়ায় চিকিৎসকরা তার নমুনা পরীক্ষা করান। রাহিদ ও তাঁর স্ত্রী আসমা মোস্তাফিজের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়।
গত ৩ জুন রাহিদ মোস্তাফিজ ও তার স্ত্রী আসমা মোস্তাফিজ আবারো নমুনা দেন। ১০ জুনে পাওয়া রিপোর্টে রাহিদ পজিটিভ ও স্ত্রী নেগেটিভ হন। সর্বশেষ ২১ জুনের রিপোর্টে তারা দু’জনই করোনা নেগেটিভ হয়েছেন।
রাহিদ মোস্তাফিজ জানান, গত ৪২ দিন তারা চিকিৎসকের দেয়া ওষুধ সেবন ছাড়াও দিনে ২-৩ বার লেবু মিশ্রিত গরম পানি এবং কালিজিরা, রসুন, আদা, তেজপাতা দিয়ে লাল চা পান করেন।
এছাড়াও টেনশন মুক্ত থেকে স্বাভাবিক খাবারের পাশাপাশি দিনে ২-৩ বার গরম পানি দিয়ে গারগেল করেছেন।
রাহিদ মোস্তাফিজ আরো জানান, তিনি এ অসুস্থ শরীর নিয়েও ৪২ দিন যুদ্ধ করে করোনাভাইরাসকে পরাজিত করতে পেরেছেন। তাই তিনি করোনা আক্রান্ত কাউকে আতঙ্কিত না হয়ে নিয়মিত ওষুধ সেবন, গরম পানি দিয়ে গারগিল, লেবু পানি ও লাল চা পানের অনুরোধ জানিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের (আইসোলেশন) আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা করোনা যুদ্ধে বিজয়ী ডা. শফিক আমিন কাজল জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি থাকায় হৃদরোগী রাহিদ মোস্তাফিজ ও স্ত্রী সুস্থ হয়েছেন।