বাংলা হেডলাইনস: মুক্তিপণের দাবিতে গাজীপুর মহানগরীর নলজানি এলাকা হতে অপহরণের ২৪ ঘন্টা পর হত্যাকান্ডের মূল হোতা মোঃ তামিমকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব -১ এর সদস্যরা।
আজ বুধবার বিকেলে র্যাব-১’র স্পেশালাইজ কোম্পানী পোড়াবাড়ি ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার লেঃ কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল-মামুন এ তথ্য জানিয়েছেন।
র্যাব-১ এর ওই কোম্পানী কমান্ডার জানান, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নলজানী মধ্যপাড়া এলাকায় স্বপরিবারে ভাড়া বাসায় থাকেন কামরুল ইসলাম। কামরুল ও তার স্ত্রী স্থানীয় পোশাক কারখানায় চাকুরি করেন।
তাদের ৭ বছরের প্রতিবন্ধি শিশু সন্তান ফাহিম স্থানীয় চান্দনা কেজি ইন্সটিটিউট স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র। তাদের প্রতিদিনের মতো সোমবার শিশু সন্তান ফাহিমকে বাসায় রেখে কামরুল ও তার স্ত্রী গার্মেন্টসে যান।
দুপুরে খাবারের বিরতির সময় এ দম্পতি বাসায় এসে ফাহিমকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন।
রাতে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা মোবাইল ফোনে শিশুটির পরিবারের কাছে ফাহিমকে অপহরণ করার কথা জানিয়ে ৫লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে খুন করার হুমকি দেয়।
তিনি আরো জানান, অপহরণকারীদের হুমকির প্রেক্ষিতে সন্তানকে ফিরে পেতে অপহরণকারীদের মোবাইল ফোনে বিকাশের মাধ্যমে দুই হাজার টাকা দেয় শিশুটির বাবা।
একপর্যায়ে ছেলেকে না পেয়ে পুলিশকে জানায় তার বাবা। এদিকে রাতভর বিভিন্নস্থানে খোঁজাখুঁজি করেও শিশু ফাহিমের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে পরদিন (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় বাসার পাশে পরিত্যাক্ত একটি জমিতে ময়লার ঝোপে প্লাস্টিকের বস্তায় ভর্তি শিশুটির লাশ দেখতে পায় এলাকাবাসী।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছে।
এঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরী করার ২৪ ঘন্টার মধ্যে গত ২৮ জুলাই রাত অনুমান ১০.৩০ ঘটিকার সময় র্যাব-১ এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লেঃ কর্ণেল শাফী উল্লাহ বুলবুল, অধিনায়ক র্যাব-১ এর দিক নিদের্শনায় অত্র কোম্পানীর কোম্পানী কমান্ডার লেঃ কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন এর নেতৃত্বে সঙ্গীয় অফিসার/ফোর্স সহ গাজীপুর মহানগরীর সদর থানাধীন শিববাড়ী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এই চাঞ্চল্যকর অপহরণ এবং হত্যাকারী মূলহোতা তামিমকে গ্রেপ্তার করে।
আসামি তামিম হবিগঞ্জ জেলার রাখাইকালো থানার সুজনপুর গ্রামের রইচ মিয়ার ছেলে।
গ্রেফতারের পর র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত আসামী মোঃ তামিম (২০) ভিকটিম প্রতিবন্ধী শিশু মোঃ ফাহিম (০৭) অপহরণ ও হত্যার কথা স্বীকার করে এবং এই চাঞ্চল্যকর হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দেয়।