শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৫ অপরাহ্ন
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার:
বাংলাদেশ পুনর্গঠনে জাতিসংঘে থ্রি-আর কৌশল তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি বিমান কেনার চুক্তি হয়েছে: মাহদী আমিন প্রধানমন্ত্রীকে অশোভন ভাষায় আক্রমণ করছে বিরোধীরা: রিজভী রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রী-এমপিদের বেতন বৃদ্ধির উদ্যোগ নিলে ‘বাধা দেব’: শফিকুর প্রধানমন্ত্রী ইউএনজিএর প্রথম দিন ১০ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন: মাহ্দী আমিন জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রাতরাশে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি শুরু জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না : প্রতিমন্ত্রী ন্যাম ভবন থেকে এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর লাশ উদ্ধার গণভোটের রায় পাশ কাটিয়ে সংবিধান সংশোধন নয় : জামায়াত

১১ আগস্ট ঐতিহাসিক জাহাজমারা দিবস

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২০
  • ৪৪৯ দেখা হয়েছে

বাংলা হেডলাইনস টাংগাইল: ১১ আগস্ট ঐতিহাসিক জাহাজমারা দিবস।

১৯৭১ সালের এই দিনে মহান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল ঘটনা।

মুক্তিযুদ্ধের সময় টাঙ্গাইলের যমুনা ধলেশ্বরী নদীপথে নজরদারীর দায়িত্বে ছিলেন কাদেরিয়া বাহিনীর দুধর্ষ সাহসী চৌকষ কমান্ডার মেজর হাবিবুর রহমান বীরবিক্রমের উপর ।

১৯৭১ সালের ৯ আগস্ট রাতে সাতটি ছোট-বড় জাহাজ হঠাৎ টাঙ্গাইলের ভুয়াপুরে যমুনা নদীর সিরাজকান্দি ঘাটে নোঙর করে। এ খবর দ্রুত পৌঁছে যায় মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে। সেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের যে দলটি ছিল, তার দলনেতা ছিলেন হাবিবুর রহমান। তারা সবাই কাদেরিয়া বাহিনীর সদস্য ছিলেন ।

হাবিবুর রহমান জানতে পারেন নোঙর করা জাহাজে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র রয়েছে।

কাদের সিদ্দিকী হাবিবুর রহমানকে জানালেন, ওই জাহাজে আক্রমণ করে অস্ত্রশস্ত্র দখল করতে পারলে ভবিষ্যতে মুক্তিযুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া সহজ হবে।

এরপর ১১ আগষ্ট ভুয়াপুরের মাটিকাটা নামক স্থানে দুটো জাহাজকে তারা আক্রমণ করে ।

তার অত্যন্ত দূরদর্শিতা ও অল্প সংখ্যক সাহসী মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে জীবন বাজি রেখে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দুটি অস্ত্র বোঝাই জাহাজ এস.ইউ ইঞ্জিনিয়ার্স এল.সি -৩, ও এসটি রাজন ধ্বংস করার মাধ্যমে হানাদারদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে দেন।

জাহাজগুলো আক্রমণ ও দখল করে বিপুল অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ মুক্তিযোদ্ধাদের হস্তগত হয়। বাংলাদেশের ইতিহাসের দীর্ঘ ৯ মাসে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীদের সামগ্রীকভাবে অন্য কোথাও মুক্তিবাহিনীদের হাতে এত বড় ক্ষতি ও বিপর্যয়ের সম্মুখিন হতে হয়নি।

জাহাজ থেকে ১,৭০,০০০ মর্টার শেল উদ্ধার করা হয়। ৭০,০০০ গ্রেনেড, ১০ লক্ষের বেশি গুলি, ৫০০ এর অধিক বন্দুকসহ নানা রকম অস্ত্র পাওয়া যায়।

মুক্তিবাহিনীর হাতে এত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র (হানাদারদের হিসাব মতেই ২১ কোটি টাকা, যা বর্তমানে প্রায় হাজার কোটি টাকার বেশি) হারিয়ে পাক বাহিনীর অনেক ক্ষতি হয়েছিল যে, তারা এই অঞ্চলে আবার নতুন করে অভিযান শুরু করে। অস্ত্র উদ্ধারের প্রাণপণ চেষ্টা করে তারা।

উল্লেখ্য, ১২-১৪ই আগস্ট পর্যন্ত চলা পাক বাহিনীর এই অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন নিয়াজি স্বয়ং। পাক বাহিনীর ৪৭ ব্রিগেড এই অঞ্চল দখলের চেষ্টা করে। বিমান বাহিনীর দুটি স্যবর বোমা হামলা চালায়।

কিন্তু কাদেরিয়া বাহিনী লুট করা অস্ত্র দিয়েই পাক বাহিনীকে সফলভাবে প্রতিহত করে।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এই যুদ্ধকে পট পরিবর্তনকারী অধ্যায় হিসেবে গণ্য করা হয়। কমান্ডার হাবিবুর রহমানের অসম ও বলিষ্ঠ সাহসীকতার নেতৃত্বের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে “বীরবিক্রম” উপাধিতে ভূষিত করেন।

মুক্তিযুদ্ধে শত্রু জাহাজ দখল ও ধ্বংস করার জন্য তাঁকে জাহাজমারা হাবিব বলেও ডাকা হয় ।

হাবিবুর রহমানের জন্ম টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার জামুরিয়া ইউনিয়নের সাধুরগলগন্ডা গ্রামে । পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত ছিলেন হাবিবুর রহমান।

১৯৭১ সালের মার্চে ছুটিতে থাকা অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ঝাপিয়ে পড়েন প্রতিরোধ যুদ্ধে কাদেরিয়া বাহিনীর একজন চৌকষ সদস্য হিসেবে।

ফেসবুকের মাধ্যমে আমাদের মতামত জানাতে পারেন।

খবরটি শেয়ার করুন..

এই বিভাগের আরো সংবাদ
Banglaheadlines.com is one of the leading Bangla news portals, Get the latest news, breaking news, daily news, online news in Bangladesh & worldwide.
Designed & Developed By Banglaheadlines.com