বাংলা হেডলাইনস টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইলের সখীপুরে বনের জমি দখল করে আবাসিক এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে অবৈধ সিসা কারখানা।
আশপাশে অর্ধশতাধিক পরিবার বসবাস থাকলেও অসাধুরা এ অবৈধ সিসার কারখানা গড়ে তুলেছেন। চিকিৎসকদের মতে, সিসার রাসায়নিক পদার্থ আশপাশের এলাকার পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে। মানছেন না কারখানার মালিকপক্ষ।
জানা যায়, উপজেলার কালিয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডে রামখা এলাকার কেবিজি চালায় একটি সামাজিক বনায়নের ভেতর চারদিকে টিনের বেষ্টনী করে প্লটের মালিককে ম্যানেজ করে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ানম্যান জামাল মিয়া ওরফে চশমা জামালের সহযোগীতায় অবৈধ এ সিসা কারখানা গড়ে তুলেছেন মুন্সিগঞ্জের সিসা ব্যবসায়ী রেজাউল করিম।
বাইর থেকে দেখলে বোঝার উপায় নেই যে ভেতরে এক বড় একটি সিসা কারখানা রয়েছে। ভেতরে আট থেকে দশজন শ্রমিক পরিত্যক্ত ব্যাটারির খোলস আলাদা করছেন। তাঁদের হাতে গ্লাভস থাকলেও মুখ-পায়ে কোনো নিরাপত্তা সরঞ্জাম নেই।
কারখানার পাশেই এসিড মিশ্রিত বর্জ্যের ছোট ছোট বেশ কয়েকটি স্তূপ রয়েছে।
মাটি গর্ত করে চারটি চুলা বানানো হয়েছে। ব্যাটারির ভেতরের এসিড মিশ্রিত জমাট বর্জ্য (সিসা) মাটির গর্তে চুলির মধ্যে সাজিয়ে রেখে কাঠ ও কয়লা দিয়ে আগুন ধরিয়ে ডিজেলচালিত যন্ত্র দিয়ে বাতাস দেয়। বর্জ্য আগুনে পুড়ে তৈরি হয় তরল সিসা ।
লম্বা চামচ দিয়ে বর্জ্য সরিয়ে সিসা আলাদা করে লোহার কড়াইয়ে রাখা হয়। রাতে সিসা আগুনে পোড়ানোর সময় ধূসর ও কালো ধোঁয়ায় পুরো গ্রাম আচ্ছন হয়ে যায়।
রাত ৮ টার পর থেকে ভোররাত পর্যন্ত চলে এ সিসা তৈরির কাজ। এর দূষিত ধোঁয়ায় আশপাশের গাছপালাগুলো বিবর্ণ হয়ে গেছে। কারখানার ধোঁয়া ও বর্জ্যে ভয়াবহ পরিবেশ দূষণের কবলে আর এসিড পুড়ানোর ঝাঁঝালো গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে এলাকাবাসী।
অসুস্থ হয়ে পড়ছে আশপাশের মানুষ পশু পাখি এবং গবাদি পশু।
এ ব্যাপারে ওই প্লটের মালিক কাহার্তা ইসলামীয়া দাখিল মাদরাসার সহসুপার বলেন, বনের জমি সংলগ্ন আমার অনাবাদী চালা ভাড়া নিয়ে সিসা কারখানা করছেন মুন্সিগঞ্জ জেলার রেজাউল করিম। অত্র ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যানের অনুরোধে আমি ওই জমি ভাড়া দিতে রাজি হই।
তিনি বলেন এর দূষিত ধোয়ায় এলাকায় কয়েকজন কৃষকের গরু ছাগল মারা গেছে। বৃদ্ধ ও শিশুরাও আক্রান্ত হচ্ছে শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কারখানার পাশের বাড়ির এক মহিলা বলেন, রাতে যখন ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা বের করা হয়। তখন গোটা এলাকায় কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়।
স্থানীয় মোস্তফা মিয়া বলেন, ওই সিসা কারখানার ধোয়ার কারণে আমার দুটি উন্নত জাতের গরু মারা গেছে। যার মূল্য প্রায় ২ লক্ষ টাকা।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল রাজ্জাক ওরফে ধলা মিয়া বলেন, অনেক আগে থেকেই এই সিসার কারখার অভিযোগ শুনে আসছি। আমাদের ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থানা নেওয়া হবে।
কারখানার মালিক রেজাউল করিমের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি স্থানীয় যারা আছেন তাদের সাথে কথা বলতে বলেন। তিনি এ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে কোন তথ্য দিতে পারবেন না বলে ফোন রেখে দেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো.আব্দুল জলিল বলেন, রামখা এলাকায় কয়েকজন কৃষকের গরু মরার বিষয় আমরা শুনেছি। পরে আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারি ওই এলাকায় একটি সিসার কারখানা রয়েছে।
পরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ওই সিসা কারখানা বন্ধের ব্যপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.আবদুস সোবাহান বলেন, ব্যাটারির সিসা পোড়ার ধোঁয়ায় মানুষের শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ কিডনিসহ ক্যান্সারের মতো রোগের ঝুঁকি রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চিত্রা শিকারী বলেন, এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।