বাংলা হেডলাইনস গাজীপুর : গাজীপুরের বাঘের বাজার এলাকায় চলন্ত বাসে এক নারী হকারকে ধর্ষণের অভিযোগে তাকওয়া পরিবহনের চালক সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এই সময় পরিবহন শ্রমিক শরীফ হোসেন দৌড়ে পালিয়ে যায়। তাকওয়া পরিবহনের ওই বাসটি জব্দ করে জয়দেবপুর থানায় নেয়া হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া সাদ্দামকে আদালতে চালান করা হয়েছে।
পুলিশ ও ভূক্তভোগী জানায়, বিভিন্ন পরিবহনের চকলেট বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতো ওই নারী হকার।
শনিবার দিনভর কালিয়াকৈরের চন্দ্রা এলাকায় বিভিন্ন পরিবহনে চকলেট বিক্রি করে আসছিল সে ।
পরে রাত ৯ টার দিকে চকলেট বিক্রির সময় তাকওয়া পরিবহনের চালক সাদ্দাম হোসেন ও শরীফ হোসেন বাসে করে তাকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের চান্দনা চৌরাস্তা নিয়ে যায় । সেখান থেকে খালি বাস নিয়ে ফেরার পথে ওই নারীকে কুপ্রস্তাব দেয় তারা ।
এসময় ওই নারীকে গাড়ি থেকে না নামিয়ে জেলার বিভিন্ন রুটে নিয়ে ঘুরতে থাকে তারা। এক পর্যায়ে গাড়িটি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক থেকে ভান্নারা রোড দিয়ে জামালপুর থেকে গাজীপুরের ভাওয়াল মির্জাপুর যাওয়ার পথে বাসের মধ্যে কয়েকবার ধর্ষণ করা হয় ওই নারীকে।
পরে বাসটি নিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে উঠে মেম্বারবাড়ি এলাকায় গেলে নারীর চিৎকার শুনে টহলরত পুলিশ সেটিকে থামানোর সংকেত দেন।
এসময় বাসের সহকারি শরীফ হোসেন দৌড়ে পালিয়ে যায় । পরে ঘটনাস্থল থেকে চালক সাদ্দাম হোসেনকে আটক করে এবং তাকওয়া পরিবহনের ওই বাসটি জব্দ করে পুলিশ।
রোববার সকালে ওই নারী বাদী হয়ে দুই জনকে আসামি করে জয়দেবপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় পুলিশ সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেল হাজতে পাঠায়।
জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাবেদুল ইসলাম জানান, তাকওয়া পরিবহনের ওই বাসের গতিবিধি সন্দেহ হলে টহল পুলিশ বাসটি আটক করে ।
পরে নারী হকারকে ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে চালক সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেপ্তার ও বাসটি জব্দ করা হয়। মামলার অপর আসামী শরিফ হোসেনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তাদের দুজনের বাসা গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ইটাহাটা এলাকায়।
ধর্ষণের শিকার হওয়া ওই নারীর গ্রামের বাড়ি জামালপুর জেলায় এবং বর্তমানে ঢাকার আশুলিয়ায় বসবাস করে।