বাংলা হেডলাইনস রাঙ্গামাটি: রাঙ্গামাটিতে সাবেক সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির প্রতিষ্ঠাতা মানবেন্দ্র নারায়ন লারমার ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।
তবে এবার করোনার কারণে আনুষ্ঠানিকতা এবার সংক্ষিপ্ত করা হয়।
আজ মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর) সকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কার্যালয় প্রাঙ্গনে এমএন লারমার প্রতিকৃতিতে জনসংহতি সমিতি, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ নেতাকর্মীসহ অন্যান্য পেশাজীবি সংগঠনের পক্ষ থেকে পূষ্প্যমাল্য অপর্ণ করা হয়।
পূষ্প্যমাল্য অর্পণ শেষে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন নেতাকর্মীরা।
এতে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য চাথোয়াই মারমা, মাবেন্দ্র নারায়ন লারমা মেমোরিয়েল ফাউন্ডেশনের সভাপতি বিজয় কেতন চাকমা, জনসংহতি সমিতির নেতা ডা: গঙ্গামানিকসহ পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্জালন করা হয়।
১৯৮৩ সালের ১০ নভেম্বর বিভেদপন্থীরা হামলা চালালে এম এন লারমাসহ তার আটজন সহযোগীসহ নিহত হন। তিনি মৃত্যুর আগ পর্ষন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামের দশ ভাষাভাষি ১৩টি ক্ষুদ্র-নৃ- গোষ্ঠি জাতিসত্বাদের আত্মনিয়ন্ত্রাধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন।
উল্লেখ্য, এমএন লারমা ১৯৩৯ সালে ১৫ সেপ্টেম্বর রাঙ্গামাটি শহর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মহাপ্রুম নামক স্থানে (বর্তমানে কাপ্তাই বাঁধের কারণে বিলুপ্ত) জন্মগ্রহণ করেন।
পিতা চিত্ত কিশোর লারমা, মাতা শুভাষিনী দেওয়ান। এমএন লারমার তিন ভাই ও এক বোন। সবার বড় জ্যোতি প্রভা লারমা (মিনু) ছিলেন একজন সমাজকর্মী। বড় ভাই শুভেন্দু লারমা (বুলু) ছিলেন একজন সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মী, দক্ষ সংগঠক ও বিপ্লবী। সবচেয়ে ছোট ভাই বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান ও জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা)।
১৯৬৫ সালে ১৮ জুন তিনি পার্বত্য ছাত্র সমিতি নামে একটি সংগঠন গঠন করেন এবং সর্বপ্রথম পাহাড়ি ছাত্র সন্মেলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হন।
১৯৬০ সাল আদিবাসী জনগণের জন্য এলো এক বিভাষিকাময় বছর। সে সময় তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে কাপ্তাই জল বিদ্যুৎ প্রকল্প বিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলেন। পাকিস্তান সরকার ১৯৬৩ সালে ১৫ ফেব্রুয়ারী রাষ্ট্রদ্রোহিতা অভিযোগ এনে তাঁকে গ্রেফতার করে এবং প্রায় দুই বছর জেলে রাখার পর ১৯৬৫ সালে তাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।
১৯৭০ সালে এমএন লারমা কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হন এবং একই বছর পাকিস্তান প্রদেশিক পরিষদে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
১৯৭২ সালে ১৫ ফের্রুয়ারী পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি গঠিত হয় এবং তিনি সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন। পরে তিনি সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন।
১৯৭৩ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে বিপুল ভোটে জয়ী হন। ১৯৭৪ সালে পার্লামেন্টারি প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে তিনি লন্ডন সফর করেন।
কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর তৎকালীন সময়ে সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন থেকে সরে গিয়ে আত্মগোপন করেন এমএন লারমা এবং তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম আদিবাসী জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রাধিকার আদায়ের লক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সামরিক উইং শান্তিবাহিনী নামে সশস্ত্র আন্দোলন শুরু করেন।
১৯৭৬ সালের দিকে পার্বত্য চট্টগ্রামে ‘শান্তি বাহিনীর, সামরিক তৎপরতা শুরু হয়। সামরিক তৎপরতা দ্রুত সম্প্রসারিত হয় যা ১৯৮০ সালের দিকে বেশী জোরালো হয়ে উঠে। এর পর ১৯৮২ সালে ২৪ জুন জনসংহতি সমিতির দ্বিতীয় কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। এ সন্মেলনের পর আদর্শগত ও কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যের কারণে জনসংহতি সমিতি শেষ পর্ষন্ত দ্বিধাবিভক্ত হয় এবং ১৯৮৩ সালের ১৪ জুন সর্বপ্রথম লারমা গ্রুপ (লম্বা) ও প্রীতি গ্রুপ (বাদি) পরস্পর সশস্ত্র যুদ্ধে লিপ্ত হয়।