শুক্রবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২১, ০৮:৩৯ অপরাহ্ন
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার:

রাঙ্গামাটি রাজবন বিহারে কঠিন চীবর দানোৎসব উদযাপিত

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২০
  • ৩৬ দেখা হয়েছে

বাংলা হেডলাইনস রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি: মৈত্রীর বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়ে লাখো পূর্ণার্থীর শ্রদ্ধা এবং ধর্মীয় ভাবগাম্ভীয্যের মধ্যদিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ৪৭তম কঠিন চীবর দানোৎসব রাঙ্গামাটি রাজবন বিহারে চীবর উৎসর্গের মধ্যদিয়ে শেষ হয়েছে।

শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) বিকেলে রাঙ্গামাটির রাজবন বিহার প্রাঙ্গনে বৌদ্ধ ধর্মীয় সমাবেশে প্রয়াত পার্বত্য ধর্মীয় গুরু বনভন্তে স্মৃতির উদ্দেশ্যে পার্বত্য ধর্মীয় গুরু বনভন্তের শীর্ষ মন্ডলীর কাছে এ চীবর উৎসর্গ করা হয়।

চীর উৎসর্গের সময় ভক্তদের সাধু..সাধু..সাধু কন্ঠধ্বনিতে রাজবন বিহারের সমগ্র আশেপাশে এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। বিহার প্রাঙ্গনে আয়োজিত স্বধর্ম দেশনা দেন রাঙ্গামাটি রাজ বন বিহারের ভিক্ষু সংঘের প্রধান শ্রীমৎ প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির।

 এসময় তিনি কৌশল কর্ম, সৎ চেতনা ও সৎ জীবন নিয়ে জীবনযাপন করার জন্য হিতোপোদেশ দেন।

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্যে রাখেন, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমা, রাজ বন বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান।

উপস্থিত ছিলেন, সাবেক পার্বত্য উপমন্ত্রী মনিস্বপন দেওয়ান, মানবধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য নিরুপা দেওয়ান, বিনএনপির নেতা দীপেন দেওয়ান প্রমুখ।

এর আগে বুদ্ধ সংগীত দিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়।

পরে পঞ্চশীল, অষ্টশীল, বৌদ্ধ মূর্তি ও কঠিন চীবর উৎসর্গের পর মহাপূর্নবর্তী বিশাখা প্রবর্তিত ২৪ ঘন্টার মধ্যে তৈরীকৃত কঠিন চীবর উপস্থিত ভিক্ষু-সংঘের কাছে প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে হাজার হাজার বৌদ্ধ পূর্নার্থীর সমাগম ঘটে।

প্রতিবছর দুইদিন ব্যাপী ২৪ ঘন্টার মধ্যে তুলা থেকে চরকায় সূতা কেটে, সূতা রং করে আগুনে শুকিয়ে সেই সুতায় তাঁতে কাপড় বুনে চীবর তৈরী করে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের দান করা হলেও এবারে করোনার কারণে কঠিন চীবর দানোৎসব সংক্ষিপ্ত করে দিনব্যাপী বৌদ্ধ সমাবেশে মাধ্যমে এবার চীবর দানোৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

বৌদ্ধ ভিক্ষুদের পরিধেয় গেরুয়া কাপড়কে বলা হয় চীবর। প্রাচীন নিয়ম মতে ২৪ ঘন্টার মধ্যে তুলা থেকে চরকায় সূতা কেটে, সূতা রং করে আগুনে শুকিয়ে সেই সুতায় তাঁতে কাপড় বুনে চীবর তৈরী করে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের দান করা হয় বলে এর নাম কঠিন চীবর দান। বিশ্বের আর কোথাও এ নিয়মের প্রচলন নেই।

বৌদ্ধ শাস্ত্র মতে, দীর্ঘ আড়াই হাজার বছর পূর্বে গৌতম বুদ্ধের শিষ্য বিশাখা ২৪ ঘন্টার মধ্যে চীবর তৈরীর প্রচলন করেছিলেন। প্রতি বছর আষাড়ী পূর্ণিমা থেকে কার্তিকী পূর্ণিমা পর্যন্ত তিনমাস বৌদ্ধ ভিক্ষুদের বর্ষাবাস শেষে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের চীবর দান করতে হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৩ সাল থেকে বুদ্ধের শিষ্য বিশাখা প্রবর্তিত নিয়মে রাঙ্গামাটি রাজবন বিহারে ৪৭ বছর ধরে কঠিন চীবর দান উৎসব উদযাপিত হয়ে আসছে। রাতে রাজবন বিহারে ফানুষ উড়িয়ে শেষ হবে এই কটিন চীবর দান উৎসব।

ফেসবুকের মাধ্যমে আমাদের মতামত জানাতে পারেন।

খবরটি শেয়ার করুন..

এই বিভাগের আরো সংবাদ
Banglaheadlines.com is one of the leading Bangla news portals, Get the latest news, breaking news, daily news, online news in Bangladesh & worldwide.
Designed & Developed By Banglaheadlines.com