বাংলা হেডলাইনস: যমুনা নদীর উপর দিয়ে দেশের সবচেয়ে বড় রেলসেতু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতুর নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আজ রবিবার সকালে রাজধানীর গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী সিরাজগঞ্জ- টাঙ্গাইলে যমুনা নদীর উপর আলাদা ডাবল লাইনের রেলসেতুর নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু নির্মাণ হলে দেশের উত্তর অঞ্চল ও দক্ষিণ অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় আরও উন্নত, কমসময়ে যাতায়াত এবং আরামদায়ক হবে। একই সাথে ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে ও মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার আরও উন্নতি হবে।
আশা করা যাচ্ছে ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে রেলওয়ে সেতুর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবে।

বাংলাদেশের অকৃত্রিম ও পরীক্ষিত বন্ধু জাপানের অর্থায়নে এই রেলওয়ে সেতু প্রকল্পটি জাইকা বাস্তবায়ন করছে।
এ সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা। এরমধ্যে বাংলাদেশ সরকার দিচ্ছে ৪ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা আর জাইকা দিচ্ছে ১২ হাজার ১৪৯ কোটি টাকা।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সুচনা বক্তব্যে বলেন সরকার সারাদেশে রেলওয়ে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করবে।
‘সারা বাংলাদেশে আমরা রেলওয়ের নেটওয়ার্ক তৈরি করতে চাচ্ছি। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার গুন্দুম পর্যন্ত রেললাইন,’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন রেলকে প্রায় গলাটিপে হত্যা করতে চেয়েছিল বিএনপি সরকার। আমরা এসে তাকে জীবিত করেছি। রেলওয়ে এখন মানুষের সবথেকে ভরসা। সারা বাংলাদেশে যোগাযোগ নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন এবং বহুমুখী করা যাতে মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখে সেজন্য তাঁর সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
শেখ হাসিনা বলেন বাংলাদেশে হবে প্রাচ্য ও পাশ্চত্যের মধ্যে সেতুবন্ধন। আর সেই সেতুবন্ধন করতে গেলে আমাদেরকে ট্রান্সএশিয়ান রেলওয়ের সাথে সংযোগ করতে হবে।
‘ট্রান্সএশিয়ান হাইওয়ে এবং ট্রান্সএশিয়ান রেলওয়ে এই দুটোর সাথে যদি আমার সম্পৃক্ত হতে পারি তা হলে বাংলাদেশের গুরুত্ব অনেক বাড়বে। ব্যবসা বাণিজ্য বাড়বে, কর্মসংস্থান বাড়বে এবং মানুষের যোগাযোগ বাড়বে। এটা আমাদের জন্য একটা বিরাট সুযোগ সৃষ্টি হবে’।
প্রধানমন্ত্রী বলেন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ছাড়াও দেশের অভ্যন্তরে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও আর্থসামাজিক অবস্থার ব্যাপক উন্নতি হবে ।
তিনি বলেন তাঁর সরকার রেলের ব্যাপক যোগাযোগ করছে, সম্প্রসারণ ও নতুন নতুন ইঞ্জিন কিনছে। রেল মানুষকে যথেষ্ট সেবা দিচ্ছে এবং এমনকি পণ্য পরিবহণে বিশেষ অবদান রাখছে। করোনা ভাইরাসের সময়ও সবচেয়ে বেশি সেবা দিতে সক্ষম হচ্ছে।
‘আমাদের প্ল্যান আছে ঢাকা থেকে বরিশাল পটুয়াখালী হয়ে পায়রা বন্দর পর্যন্ত আমরা রেললাইন নিয়ে যাবো। সারা বাংলাদেশে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা করা, আভ্যন্তরীণ যোগাযোগের জন্য অল্পখরচে পণ্য পরিবহন ও মানুষের যাতায়াত করা অনেক সুবিধা হয়’।
তিনি বলেন আমরা রেলপথ, নৌপথ ও আকাশ পথ সবগুলির সার্বিক উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি বস্তবায়ন করে যাচ্ছি। তাতে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে মজবুত হবে।
শেখ হাসিনা বলেন জাপান বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু। জাপান সরকার সবসময় আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। জাপানের মত দেশ যাদের সাথে আছে তাদের আর চিন্তার কিছু নেই।
প্রধানমন্ত্রী জাপান সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন জাপান সরকার বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে দুহাত খুলে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে।