বাংলা হেডলাইনস মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: ঘনকুয়াশায় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে আজও নয় ঘন্টা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় অবর্ননীয় দুর্ভোগে পড়েন বাসযাত্রী এবং পণ্যবোঝাই ট্রাকগুলো দুই তিন ধরে ঘাটে আটকে থেকে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
পণ্যবোঝাই ট্রাকগুলো সময়মত পার হতে না পারায় কাঁচামালবাহী অনেক ট্রাকগুলোতে পঁচনও দেখা দিচ্ছে। বিভিন্ন হাট-বাজারে নিত্যপণ্যের দামও বেড়ে যাচ্ছে।
বিআইডব্লিটিসি কর্তৃপক্ষ জানায়, পদ্মা নদীতে কুয়াশার ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ায় ফেরির মার্কিং বাতির অস্পষ্টতার কারণে বুধবার রাত ১২টা থেকে এই নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়।
বৃহস্পতিবার সকাল নয়টার দিকে কুয়াশা কেটে গেলে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হয়। নয়ঘন্টা ফেরি পারাপার বন্ধ থাকায় পদ্মার উভয়পাড়ে আটকে পড়ে যাত্রীবাহী বাস, প্রাইভটকার, মাইক্রোবাস ও পণ্যবোঝাই ট্রাক।
সকাল নয়টায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যাত্রীবাহী বাস পারাপার করায় পণ্যবোঝাই ট্রাকগুলো পারাপারে সময় বেশি লাগছে।
এদিকে রাত্রীকালীন কোচগুলো পারাপার করতে বেলা ২টা বেজে যায়। এতে নতুন করে আবার দিনের বাসগুলো ঘাটে আটকা পড়ে। এভাবে ভোগান্তি নিয়েই নদী পার হতে হচ্ছে যাত্রীদের।
যাত্রীরা অভিযোগ করেন, প্রতি বছর শীত মৌসুমে ঘন কুয়াশায় তাদের দুর্ভোগে পড়তে হয়। কর্তৃপক্ষ আগাম কোন প্রস্তুতি নেয় না।
রাত ১২টার দিকে পাটুরিয়াঘাটে আটকে পড়া ঈগল পরিবহনের যাত্রী আবদুস সালাম বলেন, পরিবারের ৫ সদস্য নিয়ে তিনি বরিশাল যাচ্ছিলেন গ্রামে বাড়ি। কুয়াশায় আটকা পড়ে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায়ও তিনি ফেরি পার হতে পারেন নি।
ঘাট এলাকায় প্রয়োজনীয় শৌচাগার ও পয়:নিস্কাসনের ব্যবস্থা না থাকায় অনেক বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে বলে তিনি জানান। একই অবস্থা অন্যান্য যানবাহনে আটকে পড়া যাত্রীদেরও।
এদিকে বেলা ১১টার দিকে রাজবাড়ির দৌলতদিয়াঘাট হয়ে ফেরিতে পার হওয়া কাঁচামাল বোঝাই পিকআপভ্যানের চালক আক্কাস আলী বলেন, তিনি মাগুরা থেকে কাঁচা তরকারি নিয়ে ঢাকার কারওয়ান বাজারে আসছিলেন।
পথিমধ্যে ঘন কুয়াশার কবলে পড়ে দৌলতদিয়া ঘাটে ৯ ঘন্টা আটকে ছিলেন। বিভিন্ন কাঁচা তরকারি নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এতে কাঁচামাল বেপারি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানান।
এইভাবে বিভিন্ন ধরণের দুর্ভোগের শিকার পড়েন যাত্রী ও পরিবহন সংশ্ষ্টিরা।
তবে বিআইডব্লিটিসি আরিচা কার্যালয়ের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার জিল্লুর রহমান জানান, ঘন কুয়াশা প্রাকৃতিক বিষয়। কুয়শায় নৌদূর্ঘটনা এড়াতে ফেরি পারাপার বন্ধ রাখা হয়। বর্তমানে ১৬টি ফেরি রয়েছে এই বহরে।
কুয়াশা কেটে যাওয়ার পরই যাত্রী দুর্ভোগের কথা বিবেচনায় বাস, এ্যাম্বুলেন্স ও কাঁচামাল বোঝাই ট্রাক আগে পার করা হয়।