বাংলা হেডলাইনস মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জে যৌতুকের জন্য স্ত্রী মিতু (২৪) কে হত্যার দায়ে স্বামী একরামুল হক রবিনকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়েছে।
আজ বুধবার দুপুরে মানিকগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আলী হোসাইন এই রায় দেন।
মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামি একরামুল হক রবিন মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলার গোলড়া এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি একেএম নুরুল হুদা রুবেল জানান, ২০০৭ সালে চাঁদপুরের মতলব উপজেলায় আশ্বিনপুর গ্রামে মনিরুল ইসলামের মেয়ে মিতুর (২৪) পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়।
বিয়ের পর মিতুর পরিবারের কাছে যৌতুক দাবি করে একরামুল হক। ওই সময় এক লক্ষ ১০ হাজার টাকা রবিনকে দেন মিতুর পরিবারের লোকজন।
পুনরায় মিতুর পরিবারের নিকট সাড়ে চার লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে রবিন। যৌতুকের টাকা না পেয়ে ২০০৮ সালের ১৭ই জুলাই রাতে মিতুকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে হত্যা করে পালিয়ে যায় রবিন।
এর পরদিন অর্থ্যাৎ ১৮ জুলাই এ ঘটনায় সাটুরিয়া থানায় মিতুর মামা ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে মিতুর স্বামী একরামুল হক ও শ্বশুর রফিকুল ইসলামকে আসামি করে মামলা করেন।
২০০৯ সালে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে আসামি একরামুল হক রবিন ও তার বাবা রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
এরপর মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আসামি একরামুল হক রবিনের বিরুদ্ধে মুত্যুদন্ডের রায় ঘোষণা করেন এবং রবিনের বাবা রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালতের বিচারক তাকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি একেএম নুরুল হুদা রুবেল এবং আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন নিরঞ্জন বসাক এবং এ্যাড. মো. শফিকুল ইসলাম।