বাংলা হেডলাইনস বগুড়া : বগুড়ায় বিষাক্ত অ্যালকোহল পানে মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালে একজনের মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে এক পরিবারের তিনজনসহ সাতজনের মৃত্যু হয়েছে।
মদপানে অপর তিনজনের মৃত্যুর গুজব উঠলেও চিকিৎসক ও স্বজনরা বলছেন, তারা হৃদরোগে মারা গেছেন।
সাতজনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। আরো ২-৩ জন অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসা নিচ্ছেন।
বিষাক্ত অ্যালকোহল বিক্রির অপরাধে শহরের শিববাটি এলাকার মনোয়ার হোসেন সোমবার রাতে তিনটি হোমিও হলের মালিকের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা করেছেন। দোকানগুলো বন্ধ করে মালিক ও কর্মচারিরা পালিয়ে গেছে।
মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
মদপানে মৃতরা হলো বগুড়া শহরের পুরান বগুড়া এলাকার মৃত রামপতি দেবনাথের ছেলে চর্মকার (মুচি) প্রেমনাথ রবিদাস (৭০), তার ছেলে সুমন রবিদাস (৩৮) ও ভাই রামনাথ রবিদাস (৬৮), শহরের কাটনারপাড়া হটুমিয়া লেনের মৃত কাশেম প্রামানিকের ছেলে কুলি শ্রমিক সাজু প্রামানিক (৫৫), ফুলবাড়ি দক্ষিণপাড়ার আবদুল জলিলের ছেলে কারখানা শ্রমিক পলাশ মিয়া (৩৫), ফুলবাড়ি মধ্যপাড়ার মৃত আবদুর রহমানের ছেলে রিকশা চালক আবদুল জলিল (৬৫) ও ফাঁপোড় এলাকার মৃত আবদুল মালেকের ছেলে রিকশা চালক জুলফিকার রহমান ফকু (৫৫)।
এছাড়া পুরান বগুড়া এলাকার বাবুর্চি মোজাহার আলী (৬৫), রাজমিস্ত্রি রমজান আলী (৪০) ও নিশিন্দারা ধমকপাড়ার হোটেল ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন (৫০) মদপানে মারা যাওয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়লেও চিকিৎসক ও পুলিশ বলছেন, তারা হৃদরোগে মারা গেছেন।
সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবির জানান, বিষাক্ত অ্যালকোহল পানে অসুস্থ রামনাথ রবিদাস মঙ্গলবার সকালে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে মারা গেছেন। এ নিয়ে একই পরিবারের তিন সদস্যসহ সাতজনের মৃত্যু হলো।
তাদের লাশ উদ্ধার করে একই হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত করানো হয়েছে। মোজাহার আলী, রমজান আলী ও আলমগীর হোসেন মদপানে মারা যাবার গুজব ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু চিকিৎসক তাদের হৃদরোগে মৃত্যুর সনদ দিয়েছেন।
বিয়ে উপলক্ষে ও নিয়মিত মাদকসেবী হিসেবে মৃত ও অসুস্থরা শহরের ফুলবাড়ি এলাকার পারুল হোমিও হল ও পুনম হোমিও হল এবং শহরের তিনমাথা এলাকার খান হোমিও হল থেকে বিষাক্ত অ্যালকোহল কিনে পান করেছিল।
তিনি আরো জানান, মদপানে অসুস্থ শহরের শিববাটি এলাকার হোটেল শ্রমিক রঞ্জু মিয়ার ভাই মনোয়ার হোসেন সোমবার রাতে সদর থানায় শহরের ফুলবাড়ি এলাকার পারুল হোমিও হলের মালিক নুর আলম শেখ ও তার ভাই পুনম হোমিও হলের মালিক নুরুন্নবী শেখ এবং তিনমাথা এলাকার খান হোমিও হলের মালিক শাহিনুর ইসলামের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন।
আসামিরা দোকান ও ফোন বন্ধ রেখে আত্মগোপন করেছেন। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। নুর আলম, নুরুন্নবী ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে এর আগেও হোমিও ওষুধ বিক্রির নামে মদ ব্যবসার অভিযোগ উঠেছিল। কয়েক বছর আগে আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা এদের গ্রেফতার করার পর কোমড়ে রশি বেঁধে পুরো শহর ঘুরিয়েছিলেন।