শনিবার, ০৬ মার্চ ২০২১, ০৪:২৯ অপরাহ্ন

অতিথি পাখির আগমনে মুখরিত আত্রাই নদীর কুঞ্জবন গ্রাম

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ২৫ দেখা হয়েছে

বাংলা হেডলাইনস নওগাঁ সংবাদদাতা: অগণিত অতিথি পাখির কল-কাকলিতে মুখর হয়ে উঠেছে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার আত্রাই নদী তীরের কুঞ্জবন গ্রাম। প্রতিদিন  পাখির কিচির-মিচির শব্দে ঘুম ভাঙে এখানকার মানুষের। আর অতিথি পাখিদের নিরাপদ আবাস গড়তে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় সামাজিক সংগঠনগুলো।

প্রায় ১২ বছর ধরে আত্রাই নদীর কুঞ্জবন এলাকাজুড়ে অতিথি পাখির আগমন ঘটে শীত মৌসুমে। শীত প্রধান দেশ থেকে নিরাপদ মনে করে পাখিরা প্রতি বছর এ নদীতে এসে আশ্রয় নেয়।

শীতের শুরুতে পাখিদের আগমন শুরু হয়। এ সময় নদীতে পানির পরিমাণ কম থাকে। পানি বৃদ্ধি পেলে আবার পাখিগুলো চলে যায়। এ নদীতে বছরের প্রায় চার থেকে পাঁচ মাস পাখিগুলো থাকে।

দিনভর আত্রাই নদীতে আবাস হলেও রাতে পাখিরা চলে যায় পাশের মোহাম্মদপুর, রামচন্দ্রপুর, মধুবনসহ কয়েকটি বিলে। আবার ভোরের আলোর আগমনে ফিরে আসে।

উপজেলা সদর থেকে প্রায় এক কিলোমিটার উত্তরে কুঞ্জবন গ্রাম। অতিথি পাখি দেখতে প্রতিদিনই এখানে নানা বয়সী দর্শনার্থীরা আসে দূর-দূরান্ত থেকে।

পাখিদের কেউ যেন উত্ত্যক্ত না করে সে বিষয়েও সচেতন করা হচ্ছে স্থানীয় মানুষ ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে। পাখিগুলোকে বিরক্ত করা বা কোনো ধরণের শব্দ করা যাবে না বলেও সচেতন করা হচ্ছে।

নওগাঁ সদর উপজেলার বাঙ্গাবাড়িয়া থেকে অতিথি পাখি দেখতে আসেন খোরশেদ আলম রাজু। কথা হলে তিনি বলেন, ‘এই প্রথম এখানে এসেছি অতিথি পাখিদের দেখতে।

আত্রাই নদীতে আসা পাখির কলরবে পুরো কুঞ্জবন এলাকা কিচির-মিচির শব্দে মুখর। খুব ভালো লাগছে এখানে আসতে পেরে।

তবে সামাজিক সংগঠন ও সরকারের পক্ষ থেকে পাখিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল সৃষ্টিতে পদক্ষেপ নেওয়া হলে আগামীতে এই এলাকায় পাখিদের আরো বেশি আগমন ঘটবে। সেই সঙ্গে এলাকাটি সুস্থ বিনোদনকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।

রাজশাহী শহরের সাহেবপাড়ার গৃহিণী জাকিয়া জেসমিন এখানে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসেন।

তিনি বলেন, ‘অতিথি পাখির কলকাকলিতে সত্যিই আমি মুগ্ধ। এতগুলো অতিথি পাখি একসঙ্গে এর আগে কখনো দেখিনি। তবে পাখিদের নিরাপদ অভয়াশ্রম হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার নানামুখী প্রদক্ষেপ গ্রহণ করলে আরো বেশি পাখি আসতে পারে।’

বিচিত্র পাখি উৎপাদন গবেষণা পরিষদ নামের একটি সামাজিক সংগঠনের পরিচালক মুনসুর সরকার বলেন, ‘অতিথি পাখিদের নিরাপদ অবস্থানের জন্য নদীর মধ্যে বাঁশ দিয়ে বেশ কিছু ঘের তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি উড়ে এসে সেখানে পড়ছে। কেউ গা ভাসিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কেউ গা পরিষ্কার করছে। আবার কেউ বাঁশের ওপর বসে আরাম করছে।

পাখিদের কিচির-মিচির শব্দে মুখর নদীর দুই পাড়। বালিহাঁস, সরালি হাঁস, পানকৌড়ি, রাতচোরাসহ প্রায় ১০ প্রজাতির পরিযায়ী পাখির বিচরণ এখানে।

মুনসুর সরকার বলেন নদীতে মাছ শিকারের নামে জেলেরা যেন কারেন্ট জাল ব্যবহার করতে না পারে এবং পাখিদের অবাধ বিচরণ যেন বাধাগ্রস্ত না হয় সেজন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

তবে সরকারিভাবে অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা দিয়ে পাখিদের নিরাপদ আবাসস্থল গড়ে তোলার উদ্যোগ নিলে এই এলাকাটি পাখির গ্রাম হিসেবে পরিণত হতে পারে। পাশাপাশি বিনোদনের প্রাণ হিসেবে পরিচিতি পাবে এই কুঞ্জবন গ্রাম।’

মহাদেবপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এ কে এম জামান বলেন, পাখিদের অবাধ বিচরণ নিশ্চিত, নদীতে কেউ যেন নৌকা দিয়ে মাছ শিকার করার কারণে পাখিদের অবাধ বিচরণ বাধাগ্রস্ত না করে এবং কেউ যেন পাখি শিকার করতে না পারে সে বিষয়ে মৎস্য অফিসের পক্ষ থেকে সার্বিকভাবে লক্ষ রাখা হচ্ছে।

মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান বলেন, এখানে পাখি শিকার নিষিদ্ধ। প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে কেউ যদি অতিথি পাখি শিকার করে তাহলে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

ফেসবুকের মাধ্যমে আমাদের মতামত জানাতে পারেন।

খবরটি শেয়ার করুন..

এই বিভাগের আরো সংবাদ
Banglaheadlines.com is one of the leading Bangla news portals, Get the latest news, breaking news, daily news, online news in Bangladesh & worldwide.
Designed & Developed By Banglaheadlines.com