বাংলা হেডলাইনস গাজীপুর প্রতিনিধি : গাজীপুরের শ্রীপুরের মাওনা লাইফ কেয়ার হাসপাতালে ফুঁসলিয়ে অনভিজ্ঞ লোক দিয়ে সিজারের পর চার দিন ধরে ছেলের বউয়ের রক্তক্ষরণের অভিযোগ তুলেছেন জেলা আওয়ামী লীগ নেতা কফিল উদ্দিন মন্ডল।
হাসপাতালের চিকিৎসক ডাক্তার মাহমুদ আলম, ম্যানেজার আবুল হোসেন হাসান ও মালিক মহিউদ্দিন এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে গতকাল এই অভিযোগ কফিল উদ্দিন শ্রীপুর মডেল থানায় জমা দিয়েছেন এবং এর বিচার দাবি করেছেন সংবাদ কর্মীদের কাছে।
অবশ্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন, সেবা প্রার্থীদের নিজেদের গাফিলতির কারণে সমস্যা হলেও চিকিৎসক ও নার্সের মান এবং সেবা নিয়ে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হয়েছে।
অভিযোগে জানা যায়, কফিল উদ্দিন মন্ডলের ছেলে তুষারের স্ত্রী মোছা: শিমুর বাচ্চা ডেলিভারির বিষয়ে জানতে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি মাওনায় অবস্থিত লাইফ কেয়ার হাসপাতাল যায়। হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার শেষে জানায় ১ মার্চ তারিখে সিজারের মাধ্যমে বাচ্চা প্রসব করাতে হবে।
নির্ধারিত তারিখে তুষার তার স্ত্রী শিমুকে নিয়ে ওই হাসপাতালে যায়।
সেখানে ছেলে তুষারকে ফুঁসলিয়ে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে অনভিজ্ঞ ডাক্তার ও নার্স এর মাধ্যমে শিমুকে সিজারের মাধ্যমে বাচ্চা প্রসব করানো হয়। সন্তান প্রসব করানো, চিকিৎসা ও ওষুধ বাবদ নগদ ৩৪ হাজার টাকা নেয়া হয়।
সিজারের পর ব্যথাসহ হালকা রক্তক্ষরণ হওয়া অবস্থায় ওই হাসপাতালে চার দিন অবস্থান করে শিমু। কিন্তু প্রয়োজনীয় মানসম্মত চিকিৎসা সেবা না দিয়ে তাকে গত ৪ মার্চ তাকে রিলিজ দেয়।
রিলিজ পেলে বাড়িতে নেয়ার পর তার ব্যথা বাড়তে থাকে এবং সেলাইকৃত স্থানে থেকে অনবরত ব্লিডিং হতে থাকে। বিষয়টি ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কথা মতো আবারো ওই হাসপাতালে শিমুকে নিয়ে যায়।
অতঃপর একজন অনভিজ্ঞ নার্স এর মাধ্যমে ড্রেসিং করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। বাড়ি যাওয়ার পর ব্লিডিংয়ের মাত্রা আরো বাড়তে থাকলে উপায়ান্তর না দেখে শ্রীপুর উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মতিনুর রহমান মালার কাছে পাঠালে তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।
শিমুর অবস্থা আরো খারাপের দিকে গেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার ভালো হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন। পরামর্শ মতে তাকে উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে গেলে প্রফেসর হাফিজা আক্তার সিজারের সেলাই খুলে ভেতর থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ জমাট বাঁধা রক্ত বের করে পুনরায় সেলাই করে দেন।
এতে তাদের ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়। কফিলউদ্দিন অভিযোগ করেন, অন্যায়ভাবে আর্থিক লাভবান হওয়ার আশায় ইতিপূর্বেও এই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আরো মানুষের ভুল চিকিৎসা করে ক্ষতি করে আসছে।
তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তিনি শাস্তিমুলক ব্যবস্থা দাবি করছেন।
হাসপাতালের ম্যানেজার আবুল হোসেন হাসান বলেন, তাদের চিকিৎসায় কোনরকম ত্রুটি ছিল না। ডাক্তার ও নার্সের অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।