বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধি : বগুড়ায় জনসচেতনতার অভাবে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলায় করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাড়ছে।
লকডাউনের প্রথমদিন বুধবার প্রশাসনের ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করে গেলেও বৃহস্পতিবার অনেকটা ঢিলেঢালা ছিল। দোকানের দরজা বন্ধ থাকলেও ভিতর থেকে কেনাকাটা চলছে। কিছুটা সাশ্রয়ের আশায় জনগণ গাদাগাদি করে টিসিবির পণ্য কিনছেন। শহরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত গত ২৪ ঘন্টায় এ জেলায় করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়ে এক মুক্তিযোদ্ধাসহ দুইজন মৃত্যুবরণ করেছেন। এ সময় আক্রান্ত হয়েছেন ৩৮ জন। ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন এ তথ্য দিয়েছেন।
বগুড়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত গত ২৪ ঘন্টায় শহরের জলেশ্বরীতলা এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা আহাম্মেদ রহমান টিএমএসএস হাসপাতালে ও শেরপুর উপজেলার বাসিন্দা হাফিজার রহমান বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে মারা গেছেন।
বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল পিসিআর ল্যাবে বুধবার ১৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৩৪ জনের শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া যায়। টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ ও রফাতউল্লাহ কমিউনিটি হাসপাতালে পিসিআর ল্যাবে ১১ জনের নমুনা পরীক্ষা করে চারজনের করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে। নতুন করে আক্রান্ত ৩৮ জনের মধ্যে শুধু বগুড়া শহরে ৩৭ জন ও গাবতলীতে একজন। এ নিয়ে জেলায় গত এক বছরে করোনা আক্রান্ত হলেন, ১১ হাজার ১২৪ জন।
এদিকে জনসচেতনার অভাবে এ জেলায় করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। লকডাউনের দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সবকিছু ঢিলেঢালা ছিল। শহরের কেন্দ্রস্থল এলাকায় দোকানপাট বন্ধ থাকলেও পাড়ামহল্লায় কোন দোকান বন্ধ নেই। দরজা বন্ধ থাকলেও ভিতর থেকে কেনাবেচা চলছে।
ভ্রাম্যমান আদালতের গাড়ি দেখামাত্রই দোকানপাট বন্ধ করা হচ্ছে। দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালত শহরের কলোনী এলাকায় আদালত বন্ধু এন্টারপ্রাইজ নামে এক সিমেন্টের দোকানের মালিককে এক হাজার টাকা জরিমানা করেন। বিনা প্রয়োজনে জনগণ রাস্তা দিয়ে চলাচল করছেন।