বাংলা হেডলাইনস নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর মান্দায় একটি বাড়িতে মজুত করে রাখা আউশ প্রনোদনার বীজ ও সার উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলা কৃষি অফিস সংলগ্ন বড়পই গ্রামের এমদাদ মাষ্টারের ছেলে মাহমুদুল হকের বাড়ি থেকে এগুলো উদ্ধার হয়।
মাহমুদুল হক মান্দা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগাঠিনিক সম্পাদক।
এসময় ইউপি সদস্য আতাউর রহমানকে আটক করা হয়েছে। আটককৃত আতাউর রহমান উপজেলা তেঁতুলিয়া ইউপির ২নং ওয়ার্ড সদস্য ও শংকরপুর গ্রামে মৃত আসকান আলী মন্ডলের ছেলে।
তবে ধারণা করা হচ্ছে কৃষি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজসে এসব প্রনোদনাগুলো নামে বেনামে কৃষি কার্ড দিয়ে উত্তোলন করা হয়েছে। পরে সেগুলো খোলা বাজারে বেশি দামে বিক্রি করার প্রচেষ্টা করা হচ্ছিল বলে ধারণা করছেন সচেতনরা।
কৃষি অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ এপ্রিল উপজেলা পরিষদ হলরুমে ২০২০-২১ অর্থ বছরে আউশ প্রনোদনার বীজ বিতরণের উদ্বোধন করা হয়।
এছাড়া বুধবার (২১ এপ্রিল) কৃষকদের মাঝে প্রনোদনা দেওয়া হয়। উপজেলার মান্দা, পরানপুর, প্রসাদপুর, নুরুল্লাবাদ, ভারশোঁ, কশব, তেঁতুলিয়া ও গণেশপুর ইউনিয়নের ৮৮০ জন কৃষকদের মাঝে এসব প্রনোদনা দেওয়া হয়।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে ২টি ভ্যানে করে কৃষি প্রণোদনার সার ও বীজ আতাউর রহমান উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল হকের বাড়িতে নিয়ে যায়। বিষয়টি সন্দেহ হলে তাৎক্ষনিক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়।
সংবাদ পেয়ে কৃষি অফিস সংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম কর্ণারে বড়পই গ্রামের এমদাদ মাষ্টারের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে আউশ প্রণোদনার বীজ ও সার উদ্ধার করা হয়। কৃষি অফিস থেকে বাড়িটির দূরত্ব প্রায় ২০০ ফুট।
উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে- পটাশ ২১ বস্তা (৫০ কেজি ওজন), ডিএপি ৪৮ বস্তা (৫০ কেজি ওজন), ধান বীজ ৬৬ বস্তা (১০ কেজি ওজন) এবং খোলা বীজ ৩ বস্তা। অভিযানের বিষয়টি জানতে পেরে বাড়ির সবাই সটকে পড়ে।
অভিযোগ আছে- কৃষি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজসে নামে বেনামে কৃষি কার্ড দিয়ে কৃষি অফিস থেকে প্রনোদনাগুলো উত্তোলন করা হয়েছে। খোলা বাজারে বেশি দামে বিক্রি করেন অসাধু ব্যবসায়ী।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শায়লা শারমিন বলেন, কৃষিকার্ডধারী উপকারভোগী কৃষকদের মাঝে প্রণোদনাগুলো বিতরণ করা হয়েছে। বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় সেগুলো ২০২০-২১ অর্থ বছরে আউশ প্রনোদনার বীজ ও সার।
তবে সেখানে কিভাবে মজুদ করে রাখা হয়েছে সেগুলো প্রশাসন তদন্ত করে দেখবে। ঘটনার সঙ্গ জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে।