বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধি : বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চলছে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ও ওয়ার্ড বয় দিয়ে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ থাকলেও চিকিৎসকরা এলাকায় থাকেন না। তারা প্রাইভেট প্র্যাকটিস নিয়ে ব্যস্ত থাকায় ইচ্ছামত এসে থাকেন।
শুক্রবার সকালে চিকিৎসক না থাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ও বিষপানে অসুস্থ দু’জন মারা গেছেন। বিষয়টি ‘পুলিশ কেস’ হলেও এ ব্যাপারে স্থানীয় থানায় অবহিত না করেই স্বজনদের কাছে লাশ দেওয়া হয়েছে।
এসব নিয়ে ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত ও সাধারণ জনগণের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. আবদুল কুদ্দুস মন্ডল দাবি করেন, চিকিৎসকদের উপস্থিতিতেই দু’জন রোগী মারা গেছেন। বিষয়টি থানায় অবহিত করা হয়েছে। তাদের নিয়ে প্রভাবশালী কোন মহল ষড়যন্ত্র করছে।
দুপচাঁচিয়া থানার ওসি হাসান আলী জানান, দুটি অপমৃত্যুর ঘটনা তাদের জানানো হয়নি।
নাম ও পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক দুপচাঁচিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারি এবং স্থানীয়রা জানান, এখানে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা ব্যবস্থার বেহাল অবস্থা। ইউএইচএফপিও ডা. আবদুল কুদ্দুস মন্ডলসহ অধিকাংশ চিকিৎসক ঠিকমত দায়িত্ব পালন করেন না। তারা ব্যক্তিগত ও অন্যের ক্লিনিকে প্র্যাকটিস নিয়ে ব্যস্ত।
ডা. আবদুল কুদ্দুস মন্ডলের বিরুদ্ধে বগুড়া শহরে বসবাস, সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে বাহিরের ক্লিনিকে রোগী দেখা, করোনা আক্রান্ত হয়েও চিকিৎসা দেওয়াসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।
এসব নিয়ে অভিযোগ হওয়ায় দুদক বগুড়া সমন্বিত কার্যালয় থেকে তদন্ত চলছে। এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত চিকিৎসকরা অন্যত্র অবস্থান করেন। সপ্তাহে এক থেকে দু’দিন এসে রোগী দেখে থাকেন। সঠিক সময়ে কেউ আসেন না।
একজন নারী চিকিৎসকের পোস্টিং থাকলেও তিনি কখনও এখানে সেবা দিতে আসেননি। গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন করা হয়নি। এ অবহেলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আজও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
করোনাকালে প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসকদের নিজ কর্মস্থল এলাকায় থাকার নির্দেশ দিলেও তার অমান্য করা হচ্ছে।
শুক্রবার সকালে ডা. আশরাফুল ইসলামের দায়িত্ব ছিল। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হামিদ মিয়া নামে এক ব্যক্তি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এছাড়া বিষপানে অসুস্থ জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার সোনাইমাগুড়া গ্রামে মৃত জহির উদ্দিনের ছেলে আবদুল গফুরকে (৫০) সকাল পৌণে ১০টার দিকে এখানে আনা হয়। এ সময় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোন এমবিবিএস চিকিৎসক ছিলেন না।
মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট অরবিন্দ ও ওয়ার্ডবয় ফজলুল হক ওই দুই রোগীকে চিকিৎসা দেন। ওই সময় গুরুতর ওই দুই রোগী মারা যান। পরে ডা. আশরাফুল ইসলাম আসেন।
শুক্রবার বিকাল ৩.৫০ মিনিটে দুপচাঁচিয়া থানার ওসি হাসান আলী জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুটি অপমৃত্যুর ঘটনা তাদের অবহিত করা হয়নি।
এ প্রসঙ্গে কথা বলতে চাইলে ডা. আশরাফুল ইসলাম জানান, কোন কিছু জানতে চাইলে তথ্য অধিকার আইনের ফরম পূরণ করে আবেদন করতে হবে।
বগুড়ার দুপচাঁচিয়া ইউএইচএফপিও ডা. আবদুল কুদ্দুস মন্ডল জানান, নাইট ডিউটি শেষে ডা. সৈকত শুক্রবার সকাল ৯.২০ মিনিটে চলে যান। ৯.১৮ মিনিটে ডা. আশরাফুল ইসলাম দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন। তাই চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে দুই রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ সঠিক নয়। সকল চিকিৎসক সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন। অনেকে কোয়ার্টারে থাকেন। তিনিও নিয়মের মধ্যেই তার বাসভবনে থাকেন।
ডা. আবদুল কুদ্দুস মন্ডল দাবি করেন, প্রভাবশালী মহল তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতেই চক্রান্ত ও মিথ্যাচার করছেন। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দু’জন রোগী মারা যাবার পর ডা. আশরাফুল ইসলাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসেছেন। দায়িত্ব অবহেলার ঘটনাটিকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।