বাংলা হেডলাইনস গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো: জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন স্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যে সকল পোশাক কারখানার শতভাগ শ্রমিক দ্রুত সময়ের মধ্যে পাবে করোনা টিকা।
পর্যায়ক্রমে অন্যান্য কল কারখানার শ্রমিকরাও পাবে এই টিকা। দ্রুত ও সহজে শ্রমিকদের করোনা ভ্যাকসিন এর আওতায় আনতে রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই শুধুমাত্র এনআইডি কার্ড দেখিয়ে টিকা দেওয়া শুরু করা হয়েছে।
মেয়র রোববার সকালে নগরের কোনাবাড়ী এলাকায় তুসুকা ডেনিম কারখানায় পোশাক কারখানার শ্রমিকদের টিকা কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেছেন।
জাহাঙ্গীর আলম আরো বলেন, কারখানাগুলোর শ্রমিক-মালিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর সবাই যাতে টিকা পায় সেজন্য আজ টিকার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
প্রায় চারশত স্বাস্থ্যকর্মী এবং স্বেচ্ছাসেবীর মাধ্যমে আমরা এ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। রপ্তানিমুখী পোশাক খাতের উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে এবং এর সাথে যারা যুক্ত তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা দিতে আমরা চাচ্ছি শতভাগ শ্রমিক যেন টিকার আওতায় আসে।

পোশাকখাত যেহেতু আমাদের আন্তর্জাতিকভাবে একটা অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে আছে সেজন্য প্রথমে পোশাক শ্রমিকদের এবং পর্যায়ক্রমে অন্যান্য শিল্প কারখানার শ্রমিকদের টিকা দেয়া হবে। এর জন্য সব ধরনের কাজে সহযোগিতা করবে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন। সময় বাঁচাতে এবং শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা দিতেই আমরা রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই শুরু করেছি।
তিনি বলেন এটা শুরু হয়েছে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত ইচ্ছায় ও আন্তরিকতায়। এজন্য শ্রমিক অধ্যুষিত গাজীপুরের শ্রমিক-মালিকদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই।
গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকদের আজ (১৮ জুলাই) থেকে করোনার টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। রেজিস্ট্রেশন ছাড়া শুধু এনআইডি কার্ড দেখিয়েই শ্রমিকরা নিতে পারছেন টিকা।
নগরের কোনাবাড়ী এলাকার তুসুকা ডেনিম কারখানায় আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করেন এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সিটি মেয়র জাহাঙ্গীর আলম।
বেসরকারি সংস্থা কেয়ার বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় গাজীপুর সিটি করপোরেশন ও গাজীপুর স্বাস্থ্য বিভাগের টিকা কর্মসূচি এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা: মো: খায়রুজ্জামানের সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলাম, জিএমপি উপ-কমিশনার জাকির হাসান, বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান, ভাইস প্রেসিডেন্ট নাসির উদ্দিন, তুসুকা ডেনিম কারখানার পরিচালক ফিরোজ আহমেদ, মার্কস অ্যান্ড স্পেন্সার এর হেড অব কান্ট্রি স্বপ্না ভৌমিক, কেয়ার বাংলাদেশ এর কান্ট্রি ডিরেক্টর রামেশ সিং বক্তব্য রাখেন।
রেজিস্ট্রেশন কিংবা অন্য কোনো ধরণের ভোগান্তি ছাড়াই নিজেদের কারখানায় টিকা পেয়ে শ্রমিকরা খুশি। তারা বলছেন এই উদ্যোগের ফলে আমরা নিজেদেরকে সুরক্ষিত করে আরো নতুন উদ্দীপনা নিয়ে কারখানায় এসে কাজ করতে পারব। কারখানায় কাজ করছে আগে যে ধরণের ভীতি ছিল সেটা কেটে যাচ্ছে।
এই উদ্যোগের বিষয়ে গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডাক্তার মো: খায়রুজ্জামান বলেছেন, প্রথম পর্যায়ে আজ আমরা গাজীপুরের চারটি পোশাক কারখানায় প্রায় ১২ হাজার শ্রমিকদের টিকা দেবো।
এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। ঈদের পর প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ টি কারখানায় টিকা দেয়া হবে। সহজে যাতে শ্রমিকদের টিকার আওতায় আনা যায় সেজন্য আমরা এনআইডি কার্ডের মাধ্যমে তালিকা করেই প্রথম ডোজ দেবো এবং দ্বিতীয় ডোজের আগে সুরক্ষা অ্যাপসের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন এর আওতায় আনা হবে।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম তারিকুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রী আন্তরিকতায় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে শ্রমিকদের ভ্যাকসিন এর আওতায় আনার ক্ষেত্রে বয়সের বার উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এটা শ্রমিকদের জন্য একটি দারুন সুসংবাদ। এটা সরকারের জন্য ও একটা মাইলফলক হয়ে থাকবে। কারখানার মালিক, বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আসার কারণেই আজ সুষ্ঠুভাবে শ্রমিকদেরকে টিকা দেয়া যাচ্ছে।