শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:২০ অপরাহ্ন
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার:
সিরাজগঞ্জে সুবিধাভোগীর টাকা আত্মসাতের দায়ে গ্রাম পুলিশ চাকরিচ্যুত বগুড়ায় বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার দুই নারী যাত্রী নিহত আজ করোনায় ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বরিশাল ও রাজশাহী বিভাগে মৃত্যু নেই কুড়িগ্রামে স্কুল খোলার ৫ দিনেও ক্লাস শুরু না হওয়ায় বিপাকে ২৮৫ শিক্ষার্থী মান্দায় দিনব্যাপী প্রাণীসম্পদ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত বাঘাইছড়িতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে একজন নিহত আজ করোনা সংক্রমণ কয়েক মাসে সর্বনিম্ন।। সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে মৃত্যু নেই কৃতি ছাত্রী নৈঋতা হালদারকে সম্মাননা সাংগঠনিক কর্মকান্ড গতিশীল করতে রাঙ্গামাটিতে যুবলীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত গাজীপুরে বজ্রপাত প্রতিরোধী তালবীজ বপন

কুড়িগ্রামে ভিক্ষার টাকা নিয়েও ভাতা কার্ড দেয়নি মেম্বার !

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৫ জুলাই, ২০২১
  • ৩৭ দেখা হয়েছে

বাংলা হেডলাইনস কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: শৈশবটা ভালই কাটছিল। বাবা-মার আদরের একটুও কমতি ছিল না রাবেয়ার। পরিবারের পছন্দ মত বিয়েও হয় তার।

স্বামীর সংসারে অভাব অনটন থাকলেও দাম্পত্য জীবন সুখের ছিল। এরই মধ্যে একটি পুত্র ও কন্যা সন্তানের মা হন তিনি। একসময় স্বামী সন্তান নিয়ে বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। এরপরই বিপত্তি ঘটে তার জীবনে।

বাবার বাড়ি থেকে স্বামী সন্তান নিয়ে দিনাজপুরে শ্বশুর বাড়ি যাওয়ার পথে স্বামী খাজি মোল্লা ৭ বছর বয়সী পুত্র সন্তান আলী হোসেনকে নিয়ে লাপাত্তা হন। অনেক খোঁজাখুজির পর আজও তাদের সন্ধান পাননি রাবেয়া বেগম।

এখনও পথের পানে চেয়ে থাকেন নাড়ী ছেড়া ধন আলী হোসেনের জন্য। 

রাবেয়া বেগম (৬৭) কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ভেলুর খামারের আব্দুল্লাহর মেয়ে। কয়েক বছর আগে একমাত্র মেয়ে রাশেদা বেগম বিয়ে করে শ্বশুর  বাড়ি চলে যায়।

বাবা মা মারা যাওয়ার পর ভাইদের অভাবের সংসার ছাড়তে বাধ্য হন রাবেয়া। এরপর ঠাই হয় একই গ্রামের জনৈক আবুল কালামের বাঁশঝাড়ে। এলাকাবাসীর সহায়তায় একটি ছোট ঘরে প্রায় ৮ বছর ধরে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে তার। বয়সের ভারে ঠিকমত চলতেও পারেন না।

স্থানীয়দের অভিযোগ সরকার উলিপুর উপজেলা শতভাগ বয়স্ক ভাতা নিশ্চিত করলেও রাবেয়া বেগমকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির আওতায় আনতে চার হাজার টাকা দাবি করেন ৭ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম।

গত এক বছর পূর্বে ভিক্ষা করে দাবিকৃত টাকা পরিশোধ করলেও ভাতার কার্ড পায়নি রাবেয়া বেগম। এসময় কথা হয় রাবেয়া বেগমের সাথে।

আবেগ আপ্লুত হয়ে বলে মোর ভাতা আর কখন হইবে। বাচি থাকতে যদি না হয়, তা হইলে মরার পর হইবে। মোর কাইও নাই বা। ২৫ বছর আগে মোর বাপক (সন্তান) নিয়ে মোর স্বামী পলাইছে। কত খুঁজিছং, তবুও মোর বাপক (সন্তান) পাং নাই। আল্লাহ যদি মোর ছাওয়াটাক ফিরি দিলে হয়।

অশ্রসজল চোখে আরো বলে, আগে শরীলত (শরীরে) বল (শক্তি) আছিল (ছিল) মানষের বাড়িত যায়া খুঁজি খাছনু (খাইছিলাম)।এখন হাটপেরও পাংনা, খাবারও পাংনা। কাইও দয়া করি দিলে খাং, না দিলে অনাহারি(অভুক্ত) থাকং।

এভাবে বলতে বলতে অঝোড়ে কেঁদে ফেলে রাবেয়া বেগম।

ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলামের সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে সে টাকা নেয়ার কথা অস্বীকার করে বলে, তার ভাতা এখনো হয়নি।

উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মশিউর রহমান বলেন, ভাতা কার্ড করতে কোন টাকা লাগে না। রাবেয়া বেগমের কাছ থেকে যদি কেউ টাকা নিয়ে থাকে, তাহলে সেটি নিতান্তই ঘৃণিত। এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব তাকে ভাতা কার্ডের আওতায় আনা হবে।

ফেসবুকের মাধ্যমে আমাদের মতামত জানাতে পারেন।

খবরটি শেয়ার করুন..

এই বিভাগের আরো সংবাদ
Banglaheadlines.com is one of the leading Bangla news portals, Get the latest news, breaking news, daily news, online news in Bangladesh & worldwide.
Designed & Developed By Banglaheadlines.com