বাংলা হেডলাইনস সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘ প্রায় দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে ২টি এনেসথেসিয়া মেশিন ও ২টি এ্যাম্বুলেন্স নষ্ট হয়ে পড়ে আছে।
এ হাসপাতালে একটি আলট্রাসনোগ্রাফী মেশিনের অভাবে প্রসূতি ও গর্ভবতী মায়েদের চিকিৎসা ব্যহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে প্রকাশ, উক্ত কমপ্লেক্সের ২টি এ্যাম্বুলেন্স প্রায় ২৫ বছর ও ২টি এনেসথেসিয়া মেশিন প্রায় ১০ বছর ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। এখানে প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবলও নেই দীর্ঘদিন ধরে। এ কারণে উপজেলার প্রায় ৮ লাখ মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং অধিকাংশ রোগী ক্লিনিক নির্ভর হয়ে অর্থদন্ড দিচ্ছে। এ বিষয়ে জনস্বার্থে ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ একাধিক বার চিঠি দিলেও উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাড়া মেলেনি।
অবশ্য এ কমপ্লেক্সেকে ১০০ শয্যার আধুনিক জেনারেল হাসপাতালে রূপান্তরের দাবি এলাকাবাসির দীর্ঘদিনের। এছাড়া শাহজাদপুর পৌর শহরের মধ্যে একটি ২০ বা ৩০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণের দাবিও করা হয়েছিল। প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিম স্বাস্থ্যমন্ত্রী থাকাকালে এক অনুষ্ঠানে এলাকাবাসির এ দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে শাহজাদপুর পৌর শহরের মধ্যে একটি ২০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি আর স্বাস্থ্যমন্ত্রী না থাকায় তা বাস্তবায়ন হয়নি।
যমুনা নদীর ভাঙ্গণ কবলিত এ উপজেলার অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষ স্বল্প খরচে জটিল রোগের চিকিৎসা সেবা পেতে হিমশিম খাচ্ছে। এমন অবস্থায় এলাকাবাসীর মধ্যে এখন ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডা.আমিনুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেন, ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের যোগদানের পর বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ, চিকিৎসক সংকট ও বেশকিছু যন্ত্রপাতির অভাব দূরকরণ, হাসপাতালে সার্বক্ষণিক চিকিৎসকের উপস্থিতি, মা ও শিশুদের বিশেষ চিকিৎসা সেবা চালু, সিজারিয়ান অপারেশন চালুসহ গর্ভবতী মায়েদের সেবা দানের সুব্যবস্থা করা হয়েছে।
তবে আধুনিক ডিজিটাল এনেসথেসিয়া মেশিনের অভাবে জরুরী ও জটিল কোন অপারেশন করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া এ্যাম্বুলেন্সের অভাবে জটিল রোগীদের বিভিন্ন হাসপাতালে রেফার্ড করায় নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। অর্থাভাবে ওই ২টি এ্যাম্বুলেন্স প্রায় ২৫ বছর ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে।
তবে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন তারা দ্রুত এ কমপ্লেক্সে এ্যাম্বুলেন্স দেবেন।