বাংলা হেডলাইনস টাঙ্গাইল প্রতিনিধি : রওশন আরা (৭০), স্বামী বাহেজ উদ্দিন অনেক আগেই গত হয়েছেন।দুই ছেলে, ছেলের বউ নাতি নাতনি নিয়ে সংসার।
প্রমত্তা যমুনার জল হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় তার করাল গ্রাসে সবশান্ত হয়ে গেছেন।তার মতো অনেকেই দুর্ভাগা জীবনের যাত্রী হয়ে গেছে।
গত শনিবার থেকে রবিবার সকাল পযন্ত কালিহাতী উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের আলিপুর ভৈরববাড়ী এলাকায় যমুনায় ৫০-৬০টি বাড়ি নদীগর্ভে ও ভাঙ্গনের শিকার হয়েছে।
উজানের ঢল ও ভারী বর্ষণের ফলে টাঙ্গাইলে যমুনা, ধলেশ্বরী, ঝিনাই নদীসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পানি বৃদ্ধির ফলে টাঙ্গাইল সদর, ভূাঞাপুর, কালিহাতী, নাগরপুর, বাসাইলসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সেই সাথে শুরু হয়েছে নদী ভাঙন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, আজ যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপরদিকে পানি বেড়ে ধলেশ্বরী ৪৫ সেন্টিমিটার ও ঝিনাই নদীর পানি বৃদ্দি পেয়ে বিপদসীমার ৬৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
ফলে অনেক নীচু এলাকার আমন ধান পানির নিচে চলে গেছে । জেলার ভুঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের ভালকুটিয়া-চিতুলিয়াপাড়া এলাকায় যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সেখানে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু বসতভিটা ভেঙে নদী গর্ভে চলে গেছে। মসজিদের একটি অংশও ভেঙে গেছে। স্থানীয় লোকজন ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

গত শনিবার রাত থেকে রোববার রাত পর্যন্ত জেলার কালিহাতী উপজেলার কালিপুর এলাকায় নদী ভাঙনে অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি যমুনায় বিলীন গেছে। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম জানান, যমুনাসহ জেলার বিভিন্ন নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে ভাঙন দেখা দিয়েছে বিভিন্ন স্থানে।