শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ০৮:৩৭ অপরাহ্ন

শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শিথিল

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২ অক্টোবর, ২০২১
  • ৬১ দেখা হয়েছে

বাংলা হেডলাইনস সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনির আশ্বাসে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অবরুদ্ধ প্রশাসনিক ভবনের তালা শনিবার দুপুরে খুলে দিয়ে আন্দোলন শিথিল ঘোষণা করে একাডেমিক ভবনের সামনে অবস্থান করছেন শিক্ষার্থীরা।

তবে চুল কেটে দেয়া সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী প্রক্টর ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার না করা পর্যন্ত একাডেমিক ভবনের সামনে অবস্থান করবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র শামীম হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি তাকে ফোন করে গুরুত্ব সহকারে অভিযোগ শুনেছেন এবং ওই শিক্ষিকাকে বহিস্কারের পর কেন আন্দোলন করা হচ্ছে তা জানতে চেয়েছেন।

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীকে ঘটনা জানানোর পর তিনি আশ্বস্ত করে বলেছেন, শিক্ষার্থীদের প্রতি যেটা করা হয়েছে তা খুবই অন্যায়। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর এমন আশ্বাসের প্রেক্ষিতে প্রশাসনিক ভবনের তালা খুলে দেয়া হলেও তারা একাডেমিক ভবনের সামনেই অবস্থান করবেন বলে জানান।

সোমবার গঠিত কমিটির তদন্ত রিপোর্টে ন্যায় বিচার পেলেই আন্দোলন বন্ধ করা হবে। তা না হলে সোমবার থেকে আবারও তীব্র আন্দোলন শুরু করা হবে।

এদিকে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সোহরাব হোসেন বলেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসের প্রেক্ষিতে প্রশাসনিক ভবনের তালা খুলে দিলেও একাডেমিক ভবনের সামনেই অবস্থান করছে তারা।

ইতোমধ্যেই প্রশাসনিক কাজকর্ম শুরু করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

উলেখ্য রোববার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যায়ন বিভাগের প্রথম বর্ষের রাষ্ট্রবিজ্ঞান পরিচিতি বিষয়ে ফাইনাল পরীক্ষার হলে প্রবেশের সময় ১৪ জন শিক্ষার্থীর চুল কেটে দিয়ে লাঞ্চিত করেন বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী প্রক্টর ফারহানা ইয়াসমিন।

চুল কেটে দেয়ায় অপমান সহ্য করতে না পেরে পরদিন সোমবার রাতে নাজমুল হাসান তুহিন নামে এক ছাত্র অতিমাত্রায় ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ এ্যন্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও সকল পরীক্ষা বর্জন করে একাডেমিক এবং প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ বিভাগের চেয়ারম্যানের পদ, সিন্ডিকেটের সদস্য ও প্রক্টর কমিটির সদস্য পদ থেকে ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

তবে তার স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত রাখে।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও ওই শিক্ষিকার স্থায়ী বহিস্কারের দাবী জানিয়ে বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে আমরণ অনশন শুরু করে শিক্ষার্থীরা।

অবশেষে এ অচলাবস্থা নিরসনের জন্য বৃহস্পতিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে সিন্ডিকেট জরুরী বিশেষ সভায় শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনকে সাময়িক বরখাস্ত, বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল পরীক্ষা স্থগিত এবং একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

এরপরও প্রশাসনিক ভবনে ভিসিসহ শিক্ষক-কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ রেখে চুল কেটে দেয়া শিক্ষিকা বাতেনকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিল তারা। তবে শনিবার দুপুরে শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসে অবরুদ্ধ প্রশাসনিক ভবন খুলে দেয়া হলেও একাডেমিক ভবনের সামনেই অবস্থান করছেন শিক্ষকার্থীরা।

ফেসবুকের মাধ্যমে আমাদের মতামত জানাতে পারেন।

খবরটি শেয়ার করুন..

এই বিভাগের আরো সংবাদ
Banglaheadlines.com is one of the leading Bangla news portals, Get the latest news, breaking news, daily news, online news in Bangladesh & worldwide.
Designed & Developed By Banglaheadlines.com