রবিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ০২:১৬ অপরাহ্ন

বগুড়ায় মধুবন সিনেপ্লেক্সের যাত্রা শুরু

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২১
  • ৪২ দেখা হয়েছে

বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধি : বগুড়ায় প্রতিক্ষার পালা শেষে জিৎ ও মিমি চক্রবর্তী অভিনীত ‘বাজি’ সিনেমার শো’র মাধ্যমে মধুবন সিনেপ্লেক্সের যাত্রা শুরু হয়েছে।

আকাশ সংস্কৃতির প্রভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া লেফটেন্যান্ট (অব.) এ এম ইউনুসের প্রাচীন মধুবন সিনেমা হলটি নতুন আঙ্গিকে মধুবন সিনেপ্লেক্সে রূপান্তর করেন তার ছেলে আর এম ইউনুস রুবেল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিট্রিশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট এএম ইউনুস ১৯৭৪ সালে বগুড়া শহরের চেলোপাড়া এলাকায় মধুবন সিনেমা হল প্রতিষ্ঠা করেন।

ইবনে মিজান পরিচালিত ও শাবানা-ওয়াসিম অভিনীত ‘ডাকু মনসুর’ সিনেমা দিয়ে হলটির যাত্রা শুরু হয়। এ সিনেমা হলে এক হাজার দর্শক সিনেমা উপভোগ করতে পারতেন। বাবার সাথে এ হলের দেখাশোনা করতেন, আর এম ইউনুস রুবেল।

সর্বশেষ গত ২০১৭ সালে ‘ঢাকা অ্যাটাক’ সিনেমা প্রদর্শনের পর আকাশ সংস্কৃতির আগ্রাসনসহ নানা কারণে হলের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর আর এম ইউনুস রুবেল মধুবন সিনেপ্লেক্সে রূপান্তরের উদ্যোগ নেন।

সাড়ে তিন বছর কাজ শেষে প্রদর্শনের উপযোগী হয়। করোনাসহ নানা কারণে সিনেপ্লেক্স অনেকদিন উদ্বোধন করা সম্ভব হয়নি।

আর এম ইউনুস রুবেল জানান, হলের আসন সংখ্যা ৩৩৯টি। সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সাউন্ড সিস্টেম, নান্দনিক পরিবেশ, বিশ্বমানের প্রেক্ষাগৃহের অত্যাধুনিক সব সুবিধা সম্বলিত এ হলে দর্শকরা আন্তর্জাতিক মানের চলচ্চিত্র উপভোগ করতে পারবেন।

৪২ ফুট দৈর্ঘ্য ও ২২ ফিস প্রস্থের থ্রিডি পর্দায় ছবি দেখা যাবে। শুক্রবার তিনটি ও অন্য দিনে চারটি শো প্রদর্শিত হবে। চারটি ১৮ টন রুফটফ শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ছাড়াও নারী দর্শকদের জন্য রয়েছে, প্রসাধন কক্ষ।

পুরুষদের জন্য আলাদা বিশ্রামাগার, ফুডকোর্ট, জুসবার, কফিশপ ও পার্কিং সুবিধা রয়েছে।

শুরুতে সিঙ্গেল স্ক্রিণে প্রদর্শন শুরু হলেও পরে এর সংখ্যা বাড়বে। এছাড়া তিন ধরণের টিকিট বিক্রি হবে।

গোল্ড ৩০০ টাকা, প্রিমিয়াম ২০০ টাকা এবং স্ট্যান্ডার্ড ১০০ টাকা।

আর এম ইউনুস রুবেল আরো জানান, বিজয়া দশমী উপলক্ষে ‘বাজি’ চলচিত্র প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে মধুবন সিনেপ্লেক্সের যাত্রা শুরু হলো। তবে শিগগিরই তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সিনেপ্লেক্সের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

বগুড়ার প্রবীণরা জানান, বগুড়া শহরে ১০টিসহ সারা জেলায় মোট ৩৮টি সিনেমা হল ছিল। আকাশ সংস্কৃতি, ইন্টারনেট প্রযুক্তি চালুসহ নানা কারণে দর্শকশ্রোতা সিনেমা হল থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন।

ফলে ইতোমধ্যে ৩১টি সিলেমা হল বিলুপ্ত হয়ে গেছে। শহরের সাতমাথায় মাধু সিনেমা হল, মেট্রো সিনেমা হল ও মেরিনা সিনেমা হল, থানা রোডে উত্তরা সিনেমা হল, চারমাথায় বীথি সিনেমা হল, জাহাঙ্গীরাবাদ ক্যান্টনমেন্টে সেনা অডিটোরিয়াম এবং মাঝিড়া ক্যান্টনমেন্টে ছিল উল্লাস সিমেনা হল।

মাধু, মেট্রো, মেরিনা হল ভেঙে সেখানে মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে।

সর্বশেষ বন্ধ হয়ে গেছে, নবাববাড়ি সড়কের বাম্বি সিনেমা হল। বর্তমানে শহরে দুটিসহ জেলায় মোট সাতটি সিনেমা হল চালু থাকলেও সেগুলো চলছে ধুকে ধুকে।

করোনার কারণে দেড় বছর হলগুলো বন্ধ ছিল। কয়েকদিন আগে শহরের সোনিয়া হল চালু করা হলেও কাংখিত দর্শক হচ্ছেনা।

ফেসবুকের মাধ্যমে আমাদের মতামত জানাতে পারেন।

খবরটি শেয়ার করুন..

এই বিভাগের আরো সংবাদ
Banglaheadlines.com is one of the leading Bangla news portals, Get the latest news, breaking news, daily news, online news in Bangladesh & worldwide.
Designed & Developed By Banglaheadlines.com