বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধি: ৬০’এর দশকের তুখোড় ছাত্রনেতা, রাকসুর সাবেক ভিপি, বগুড়া সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার আলী (৮১) আর নেই।
বুধবার সকালে তিনি শহরের নিশিন্দারা উপশহরের বাড়িতে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্নাইলাহি রাজিউন )। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, দুই মেয়ে, নাতি, নাতনি, আত্মীয়-স্বজনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও পরিবারের সদস্যরা জানান, হায়দার আলী বাংলা ১৩৪৮ সালের ১৪ কার্তিক বগুড়া শহরের নিশিন্দারা পাইকপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম ফকির উদ্দিন মন্ডল। রণাঙ্গণের বীর যোদ্ধা হায়দার আলী ছাত্র জীবনে ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর কয়েক মাস আগেই তিনি ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। ষাটের দশকের শুরুতে ছাত্র-শ্রমিক আন্দোলন ও বাঙালি জাতির প্রাণের দাবি ৬ দফা ও ১১ দফা আন্দোলনে নেতৃত্ব প্রদানের ফলে ১৯৬৯ সামরিক আদালতে বিনা অপরাধে সামারি কোর্টে ১৬(ক) ধারায় এক বছরের সশ্রম কারাদন্ড, ১৫ ঘা বেত্রাঘাত, পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরো ছয় মাস কারাবাসসহ ১১ বার কারাবরণ করেন।
কারামুক্তির পর ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭২ সালের ২৪ এপ্রিল জেলে থাকা অবস্থায় পুলিশের সহযোগিতায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হন। সেখানে ৩০ এপ্রিল ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০ মে স্বাধীন বাংলাদেশে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ভিপি নির্বাচিত হন।
পরবর্তীতে তিনি বগুড়ার নিশিন্দারায় নিজ এলাকায় ফিরে এসে জনসেবায় মনোনিবেশ করেন। পরপর তিনবার নিশিন্দারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। দেশে উপজেলা ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর ১৯৮৫ সালে বগুড়া সদর উপজেলা পরিষদের প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। জনসেবার পাশাপাশি তিনি ১৯৮৬ সালে তার বাবার নামে নিশিন্দারা এলাকায় ফকির উদ্দিন স্কুল নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। পরবর্তীতে সেটি কলেজে উন্নীত হয়।
হায়দার আলী বগুড়ার কাহালু উপজেলার বীরকেদার এলাকায় ‘মুক্তিযোদ্ধা হায়দার আলী’ নামে আরও একটি স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। আগামী ১ এপ্রিল স্কুলটি উদ্বোধনের কথা রয়েছে। তিনি বগুড়ার সর্ববৃহৎ নামাজগড় আঞ্জুমান-ই-গোরস্থানের সভাপতি ছিলেন। গোরস্থানটি আধুনিকায়নে বলিষ্ঠ ভুমিকা রাখেন। হায়দার আলী তার প্রতিষ্ঠিত নিশিন্দারা ফকির উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
মরহুমের ছোট জামাতা তৌহিদ বিন আনিস হিল্লোল জানান, তার শ্বশুর বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাড়িতে স্ট্রোক করেন। দ্রুত তাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুর খবর পেয়ে আত্মীয়-স্বজন ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ বাড়িতে ভিড় করেন।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় নিশিন্দারা উপশহর খেলার মাঠে তার প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। বেলা ১০টায় তার প্রাণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফকির উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষে নামাজগড় আঞ্জুমান-ই- গোরস্থানে তাকে চিরনিন্দ্রায় শায়িত করা হবে।