সাজ্জাদুল তুহিন, বাংলা হেডলাইনস নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর মান্দায় এসএসসি পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে গিয়ে সাওফা সাফী সিফা নামের এক কলেজ ছাত্রীসহ দুই শিক্ষক রহিদুল ইসলাম ও আমিনুল ইসলামকে আটক করা হয়। এ সময় আসল পরীক্ষার্থী আঙ্গুর আক্তার কে বহিষ্কার করা হয়েছে।
শনিবার দুপুরে উপজেলার জোতবাজার আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে।
আটককৃত শিক্ষকরা হলেন, ছোট চক-চম্পক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রহিদুল ইসলাম ও শিক্ষক আমিনুল ইসলাম।
পরীক্ষার্থীরা হলেন, কাঁশোপাড়া ইউপির ছোট চক-চম্পক গ্রামের সাইফুল ইসলামের মেয়ে সাওফা সাফী সিফা । সে উপজেলার চকউলী ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। কলেজ ছাত্রী যার হয়ে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন সে একই এলাকার আমজাদ হোসেনের মেয়ে আঙ্গুর আক্তার।
জানা গেছে, শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এসএসসি পদার্থ বিজ্ঞান পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জোতবাজার আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে চকউলী ডিগ্রি কলেজের এক ছাত্রীসহ ছোট চক-চম্পক উচ্চ বিদ্যালয়ে দুই শিক্ষককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ জন্য উপজেলায় নিয়ে আসেন। শিক্ষক দুইজন ওই পরীক্ষা কেন্দ্রের দ্বায়িত্বে ছিলেন।
শিক্ষকদের সহযোগীতায়, প্রবেশ পত্রে নিজের ছবি ব্যবহার করে প্রথম পরীক্ষা থেকে সব কয়টি পরীক্ষায়, স্কুল ছাত্রীর হয়ে অংশগ্রহণ করেন কলেজ ছাত্রী। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে তার প্রবেশ পত্র দেখে ম্যাজিস্ট্রেটের জিজ্ঞাসাবাদে ধরা পড়ে পরীক্ষার্থী। এ সময় আসল পরীক্ষার্থী আঙ্গুল আক্তারকে বহিষ্কার করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
আরও জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানে পাশের হার বাড়াতে ছোট চক-চম্পক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রহিদুল ইসলামের নির্দেশে একজনের বদলে অন্যজনকে পরীক্ষায় বসানোর জন্য ছবি বদলসহ নকল প্রবেশপত্র তৈরিতে ওই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক আমিনুল ইসলামের সহায়তা নেন। আটকের পর কলেজ ছাত্রীর বয়স ১৭ বছর হওয়াতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে তাকে তার মায়ের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। এমন ঘটনায় অসাধু দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোন ব্যাবস্থা গ্রহণ না করায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু বাক্কার সিদ্দিক জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অন্যের হয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করায় এক কলেজ ছাত্রীসহ দুই শিক্ষককে উপজেলায় নিয়ে আসা হয়েছে। আঙ্গুর আক্তার নামের শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আটককৃত কলেজ ছাত্রী সেফার বয়স ১৭ বছর না হওয়ায় তাকে মায়ের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
জোতবাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ট্যাগ অফিসাকে এ বিষয়ে রির্পোট দিতে বলা হয়েছে। এরপর সেটা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠানো হবে। আইনি প্রক্রিয়া ও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দুই শিক্ষককেও ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।