বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ায় প্রায় এক যুগ পরে আগামী ২রা নভেম্বর জেলা বিএনপির সম্মেলনকে ঘিরে নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়েছেন।
ওইদিন সকাল ৯টা থেকে দিনব্যাপী শহরের শহীদ টিটু মিলনায়তনে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। লন্ডন প্রবাসী দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়রাম্যান তারেক রহমান স্কাইপের মাধ্যমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিশেষ অতিথি থাকবেন, স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমদু টুকু ও রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ওবাইদুর রহমান চন্দন।
সভাপতিত্ব করবেন, জেলা বিএনপির আহবায়ক একেএম সাইফুল ইসলাম।
এদেক বুধবার রাতে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ও প্রত্যাহার শেষে চুড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ১৬ জনের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মাঝে ভোটার না করায় প্রার্থীতা প্রত্যাহারের ঘটনাও ঘটেছে।
সভাপতি পদে সাবেক সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলাম ছাতা, রেজাউল করিম বাদশা আনারস ও ফজলুল বারী তালুকদার বেলাল দেওয়াল ঘড়ি প্রতীক পেয়েছেন।
সাধারণ সম্পাদক পদে আলী আজগর তালুকদার হেনা রিকশা ও এমআর ইসলাম স্বাধীন মোটরসাইকেল প্রতীক পেয়েছেন।
এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আবদুল আজিজ হীরা আম, মোশারফ হোসেন স্বপন সিএনজি, শেখ তাহাউদ্দিন নাইন গোলাপ ফুল, এবিএম মাজেদুর রহমান জুয়েল বই, সহিদ উন নবী সালাম কাপপিরিচ, জাহিদুল ইসলাম হেলাল টিউবওয়েল, একেএম খায়রুল বাশার মই, শহিদুল ইসলাম মাইক, মিজানুর রহমান রাজা কল, সোলায়মান আলী বালতি ও আলী হায়দার দোতা চশমা প্রতীক পেয়েছেন।
মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই, প্রত্যাহার, চুড়ান্ত তালিকা প্রকাশ ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দকালে অন্যান্যের মধ্যে জেলা বিএনপির আহবায়ক ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক একেএম সাইফুল ইসলাম, সদস্য সচিব মোশারফ হোসেন এমপি, উপদেষ্টা হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, সদস্য লাভলী রহমান, মামুনুর রশিদ মিঠু, একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকির, মীর শাহে আলম, মোর্শেদ মিল্টন, একেএম তৌহিদুল আলম মামুন, মাফতুন আহমেদ খাঁন রুবেল প্রমুখ।
এদিকে ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় দীর্ঘ ৪০ বছর বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের দায়িত্ব পালনকারী জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। জেলা বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক ও সদস্য সচিবের কাছে লিখিতভাবে তার সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেন।
জয়নাল আবেদীন চাঁন বলেন, বর্তমানে কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী সদস্য ও দীর্ঘদিন রাজনীতি করার পরও ভোটার তালিকায় তার নাম নেই। তার কাছে বিষয়টি পূর্ব পরিকল্পিত মনে হওয়ায় তিনি নির্বাচনে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছেন।
এ প্রসঙ্গে জেলা বিএনপি ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক একেএম সাইফুল ইসলাম জানান, জয়নাল আবেদীন চাঁনের বাড়ি শাজাহানপুর উপজেলায়। হয়তো সেখানকার তালিকায় তার নাম উঠেছে। এটা কোন পরিকল্পিত ঘটনা নয়। এরপরও তাকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি অভিমানে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছেন।
বগুড়া জেলা বিএনপির সূত্র জানায়, গত ২০১০ সালে জেলা বিএনপির সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সাইফুল ইসলাম সভাপতি ও জয়নাল আবেদীন চাঁনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছিল। সংগঠনে আধিপত্য বিস্তার ও পদপদবি নিয়ে নেতাকর্মীরা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েন। ২০১৯ সালের ২৯ এপ্রিল পাল্টা পাল্টি আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এতে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে লন্ডন প্রবাসী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান হস্তক্ষেপ করেন। তার নির্দেশে ওই বছরের ১৫ মে বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজকে প্রধান করে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে অপর অংশের নেতাকর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। তারা শহরের নবাববাড়ি সড়কের দলীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। তারা সিরাজকে সরিয়ে দিতে দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। এ ঘটনায় কয়েকজন পৌর কাউন্সিলরসহ ১৬ নেতাকে দল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে গত ২০২১ সালের ১৩ নভেম্বর জেলা বিএনপির আহবায়কের পদ থেকে গোলাম মোহাম্মদ সিরাজকে সরিয়ে সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম বাদশাকে আহবায়ক করা হয়।
সম্মেলনে সভাপতি প্রার্থী হওয়ার জন্য রেজাউল করিম বাদশা আহবায়কের পদ থেকে সরে যান। কেন্দ্রীয় নির্দেশে সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক একেএম সাইফুল ইসলামকে আহবায়ক ও সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেনকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।