বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬:০৯ অপরাহ্ন
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার:

বেইন ঘর ও সুতা কাটার মধ্যদিয়ে রাজবন বিহারে কঠিন চীবর দানোৎসব শুরু

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৩ নভেম্বর, ২০২২
  • ৫৪ দেখা হয়েছে

বাংলা হেডলাইনস রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : দেশের বৌদ্ধ ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ ধর্মীয় তীর্থস্থান রাঙ্গামাটি রাজবন বিহারে বেইন ঘর ও সুতা কাটার মধ্যদিয়ে মহামতি বিশাখা প্রবর্তিত নিয়মে শুরু হয়েছে দু’দিনব্যাপী ৪৯তম কঠিন চীবর দানোৎসব। 

বৃহস্পতিবার (৩ নভেম্বর) ৩টায় বৌদ্ধ ভিক্ষুদের কাছ থেকে পঞ্চশীল গ্রহণের পর মহাপরিনির্বাণপ্রাপ্ত মহাসাধক শ্রীমৎ সাধনানন্দ মহাস্থবির বনভান্তের শিষ্যমন্ডলী ও চাকমা সার্কেল এর রাজা ব্যারিষ্টার দেবাশিষ রায় বেইন ঘর ও চড়কায় তুলা থেকে সুতা কেটে বেইন বুনন কাজের উদ্বোধন করেন রাণী য়েন য়েন। 

পরে বেইন ঘর পরিদর্শন শেষে সূত্রপাঠ করেন, মহাপরিনির্বাণপ্রাপ্ত মহাসাধক শ্রীমৎ সাধনানন্দ মহাস্থবির বনভান্তের শিষ্যমন্ডলী।

এ সময় রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অংসুুইপ্রু চৌধুরী, রাজবন বিহার পরিচালনা কমিটির সিনিয়র সহ সভাপতি গৌতম দেওয়ান, নিরূপা দেওয়ান, এ্যাডভোকেট সুষ্মিতা চাকমা,রাজবন বিহার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অমিয় খীসাসহ উপাসক-উপাসিকা পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এর পর শুরু হয় ২৪ ঘন্টার মধ্যে চীবর প্রস্তুতের আনুষ্ঠানিকতা।

এবার প্রায় দুইশত বেইনে ৬ শতাধিক দায়ক-দায়িকা অংশ নেয় কঠিন চীবর প্রস্তুতের কাজে। সুতা সিদ্ধ ও রং করা, সুতা টিয়ানো, সুতা শুকানো, সুতা তুম ও নলীতে ভরা, বেইন টানা বেং বেইন বুননের মধ্যদিয়ে বৃহস্পতিবার সারা রাত অতিক্রম করবেন দায়ক-দায়িকারা।

শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে ১১টা পর্যন্ত চলে চীবর প্রস্তুত। আর এভাবেই ২৪ ঘন্টার মধ্যে প্রস্তুত করা হয় এই পূর্ণময় চীবর রাঙ্গামাটি রাজবন বিহারের আবাসিক প্রধান প্রজ্ঞালঙ্কার মহাস্থবিরের হাতে কঠিন চীবরটি উৎসর্গের মধ্যদিয়ে শেষ হবে পার্বত্য চট্টগ্রামের বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় তীর্থস্থান রাঙ্গামাটি রাজবন বিহারে কঠিন চীবর দানোৎসব।

এদিকে, দেশের বৌদ্ধ ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ ধর্মীয় তীর্থস্থান রাঙ্গামাটি রাজবন বিহারে কঠিন চীবর দানোৎসবে তিন পার্বত্য জেলাসহ চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে যোগ দিতে এসেছে অগণিত পুণ্যার্থী। দানোৎসবে কানায় কানায় ভরে গেছে রাঙ্গামাটি রাজবন বিহার এলাকা। চার দিক পাহাড়ি-বাঙালীর মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে।

অন্যদিকে, রাঙ্গামাটি রাজবন বিহারে কঠিন চীবর দানোৎসব উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা জোড়দার করা হয়েছে। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী মানুষরা যাতে সুষ্ট সুন্দর পরিবেশে উৎসব পালন করতে পারে সে বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, আজ থেকে আড়াই হাজার বছর আগে মহামতি গৌতম বুদ্ধের জীবদ্দশায় তার প্রধান সেবিকা মহাপূণ্যবতী বিশাখা ২৪ ঘন্টার মধ্যে তুলা থেকে সুতা কেটে রং করণ, বয়ন ও সেলাই শেষে চীবর (বিশেষ পরিধেয় বস্ত্র) দানকার্য সম্পাদন করেন। ২৪ ঘন্টার মধ্যে মহাদানযজ্ঞ সম্পাদন করার কারণে বৌদ্ধরা এই ধর্মীয় উৎসবকে ‘দানোত্তম কঠিন চীবর দান’ বলে। রাঙ্গামাটি রাজবন বিহারে এ মহাদানযজ্ঞ সর্বপ্রথম অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৭ সালে।

তারও আগে ১৯৭৪ সালে বৌদ্ধ আর্যপুরুষ শ্রাবক বুদ্ধ মহাসাধক শ্রীমৎ সাধনানন্দ মহাস্থবির বনভান্তের এক স্বর্গীয় অনুভূতি থেকে রাঙ্গামাটি জেলার লংগদু উপজেলার তিনটিলা বৌদ্ধ বিহারে বিশাখার ঐতিহ্যবাহী নিয়মে এ ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। সেই থেকে প্রত্যেক বছর রাঙ্গামাটি রাজবন বিহারসহ পার্বত্য তিন জেলার রাজবন বিহারের শাখাসমূহে বিশাখা প্রবর্তিত নিয়মে কঠিন চীবর দানোৎসব সম্পাদন করা হয়ে থাকে।

বৌদ্ধ ধর্মীয় শাস্ত্র মতে গৌতম বুদ্ধের অনুসারী মহা উপাসিক বিশাখা কতৃর্ক প্রবর্তিত রীতি অনুসারে এই চীবর প্রস্তুত কষ্টদায়ক এবং কঠিন হলেও এই চীবর প্রস্তুত করে তা ভিক্ষু সংঘের হাতে তুলে দেয়া সকল দানের মধ্যে উত্তম দান এবং অধিক পূর্ণময় বিধায় এ দানকে দানের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দান হিসবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে।

ফেসবুকের মাধ্যমে আমাদের মতামত জানাতে পারেন।

খবরটি শেয়ার করুন..

এই বিভাগের আরো সংবাদ
Banglaheadlines.com is one of the leading Bangla news portals, Get the latest news, breaking news, daily news, online news in Bangladesh & worldwide.
Designed & Developed By Banglaheadlines.com