বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ০৭:০৩ অপরাহ্ন
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার:

সেবা পৌঁছে দিতে ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটিগুলো সক্রিয় করা জরুরী।। নবযাত্রা ভুমিকা রেখেছে

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২২ নভেম্বর, ২০২২
  • ১৭ দেখা হয়েছে

বাংলা হেডলাইনস খুলনা ব্যুরো: ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি কমিটিসমূহের গুরুত্ব ও কার্যকারিতা বিষয়ক কর্মশালায় বক্তারা বলেন অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন সেবা জনগণের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দিতে ইউনিয়ন পরিষদের স্থায়ী কমিটি ও কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিটিগুলকে কার্যকরী করা আবশ্যক।

খুলনা শহরে সিএসএস আভা সেন্টারে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের নবযাত্রা প্রকল্প আয়োজিত দিনব্যাপী কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিভাগের স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক মো: শহিদুল ইসলাম।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন নবযাত্রা প্রকল্পের সিনিয়র অপারেশন আশিষ কুমার হালদার।

খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালকবৃন্দ, দুই জেলার সিভিল সার্জনদ্বয়, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালকদ্বয় এবং খুলনা বিভাগের স্থানীয় সরকার বিভাগের সহকারী কমিশনার কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। 

এছাড়া দাকোপ, কয়রা, কালীগঞ্জ, ও শ্যামনগর উপজেলার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানগণ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তগণ, চার উপজেলার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাগণ এবং নবযাত্রা প্রকল্প এলাকার ১৬ জন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানগণ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।

কর্মশালার প্রধান অতিথি খুলনা বিভাগের স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক মো: শহিদুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, নবযাত্রা প্রকল্প খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার ৪টি উপজেলায় সফল এবং এখানে স্থানীয় কমিটিগুলো সক্রিয় করতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।

তিনি আরো বলেন, ‘স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী না করলে আমাদের স্বপ্ন কখনোই পূরণ হবে না। টেকসই উন্নয়নে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার কোনো বিকল্প নেই।’

কর্মশালায় অংশ নিয়ে সাতক্ষীরা জেলার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মাশরুর ফেরদৌস বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে নিজস্ব তহবিল বৃদ্ধির উপায় খুঁজে বের করতে হবে। অনেক সময় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণ  মনে করেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে কর আদায় করলে তারা জনপ্রিয়তা হারাবেন। এটা ঠিক নয়।’

তিনি বলেন, ‘স্থানীয় পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদের স্থায়ী কমিটিগুলো সক্রিয় করতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের আন্তরিক হতে হবে।’

ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সাথে খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার ৪টি উপজেলার অধীনে ৪০টি ইউনিয়নে ইউএসএআইডি’র নবযাত্রা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। 

নবযাত্রা প্রকল্পের মাধ্যমে ২০১৫ সাল থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ৮৫৯,৭০৪ মানুষকে সমন্বিতভাবে ওয়াশ, মাতৃ, শিশু স্বাস্থ্য ও পুষ্টি, জেন্ডার, কৃষি এবং বিকল্প জীবিকা, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং সুশাসন ও সামাজিক জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে সেবা প্রদান করা হয়েছে।

নবযাত্রা প্রকল্পের আওতায় সম্প্রতি “সামাজিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এবং স্থানীয় পর্যায়ে সেবা সরবরাহ বজায় রাখতে স্থানীয় পর্যায়ের সরকারী কমিটির কার্যকারিতা” এবং “জিআইএস সমীক্ষার মাধ্যমে প্রকল্পের কার্যকারিতা ম্যাপিং বিশ্লেষণ” শীর্ষক দুটি গবেষণা পরিচালনা করেছে। 

নবযাত্রা প্রকল্পের সিনিয়র ম্যানেজার রনক সি. মোহন্ত, নলেজ ম্যানেজমেন্ট, কমিউনিকেশনস ম্যানেজার মেহজাবিন রুপা এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আহসানুল কবির গবেষণা ফলাফল তুলে ধরেন।

কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন নবযাত্রা প্রকল্পের সিনিয়র টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার ড. মুশতাক আহমেদ; সুশাসন ও সামাজিক দায়বদ্ধতা উপদেষ্টা নির্মল সরকার।

স্থানীয় পর্যায়ের সরকারী কমিটির কার্যকারিতা

নবযাত্রা প্রকল্পের সিনিয়র ম্যানেজার রনক সি. মোহন্ত সামাজিক জবাবদিহিতা উন্নত করতে এবং স্থানীয় পর্যায়ে সেবা সরবরাহ অব্যাহত রাখতে স্থানীয় সরকারী কমিটিগুলির কার্যকারিতার উপর গুণগত গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করেন৷

গুনগত গবেষণায় দেখা যায় কমিউনিটি ক্লিনিক এবং ইউনিয়ন পরিষদ থেকে স্থানীয় সরকারী কমিটিগুলির মাধ্যমে জনগনের দোড়গোড়ায় বিভিন্ন সেবা পৌঁছে দেয়া নিশ্চিত করা যায় এবং এতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্থানীয় জনগণের জবাবদিহিতা এবং মালিকানা তৈরি করে।

কমিউনিটি পর্যায়ের কমিটিগুলি স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরে সেবা সম্পর্কিত কার্যক্রমের স্বচ্ছতা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে। 

জিআইএস সমীক্ষার মাধ্যমে প্রকল্পের প্রভাব বিশ্লেষণ

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আহসানুল কবির জানান, নবযাত্রা প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলে পরিচালিত বিভিন্ন সেবা কার্যক্রমের জিআইএস সমীক্ষার মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের জীবনে প্রকল্পের প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

নবযাত্রা প্রকল্পের আওতায় ৩,৩১৯টি ওয়াটার পয়েন্ট থেকে ১৪৮,০০০ মানুষের সুপেয় পানির ব্যবস্থা এবং ১৯,৬৭৪টি স্যানিটেশন পয়েন্ট থেকে ৯৩,০০০ মানুষকে সেনিটেশন সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। প্রকল্প এলাকায় উন্মুক্তস্থানে মলত্যাগ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। 

অন্যদিকে ৯৬০টি কার্যকরী ইপিআই সাইট থেকে ৬৫,০০০ শিশুকে গ্রোথ মনিটরিং প্রমোশন (জিএমপি) এবং ১২৩টি কমিউনিটি ক্লিনিকে নারী, গর্ভবতী মা এবং শিশুদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেবা প্রদান করেছে। 

নবযাত্রা প্রকল্পের জিআইএস সমীক্ষা ভবিষ্যতে সঠিক মূল্যায়ন করে যে কেউ সঠিক ভাবে উক্ত এলাকায় প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে যা কমিউনিটির মানুষের জন্য সুফল বয়ে আনবে। যে কোন প্রকল্প বাস্তবায়নে এটি ব্যবহার করলে সম্পদের সুষম বন্টন নিশ্চিত হবে। 

এছাড়া নবযাত্রা প্রকল্পের আওতায় উপকূলীয় অঞ্চলে ২০০টি সাইক্লোন শেল্টার কার্যকরী ও সক্রীয় করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এছাড়া স্থানীয় প্রান্তিক জনগণকে ১,৬০০টি  এর অধিক সঞ্চয়ী গ্রুপ গঠন করে তাদের অর্থনৈতিক অর্ন্তভুক্তিকরণে ভূমিকা রেখেছে। 

নবযাত্রা প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় পর্যায়ে সরবারহকৃত সকল সেবা সরবারহের তথ্যউপাত্ত জিআইএস ম্যাপিং এর মাধ্যমে সহজেই দেখা যাবে।

ফেসবুকের মাধ্যমে আমাদের মতামত জানাতে পারেন।

খবরটি শেয়ার করুন..

এই বিভাগের আরো সংবাদ
Banglaheadlines.com is one of the leading Bangla news portals, Get the latest news, breaking news, daily news, online news in Bangladesh & worldwide.
Designed & Developed By Banglaheadlines.com