বাংলা হেডলাইনস সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জে চারদিকে মাঠে মাঠে এখন চোখজুড়ানো সরিষা ফুলের হলুদের সমারোহ। জেলায় সরিষা চাষাবাদে এবার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। সেইসাথে সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে মৌ খামারীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জের ৯ টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এবার ৬১ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষাবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কৃষকরা এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি চাষাবাদ করেছে।
জেলার রায়গঞ্জ, তাড়াশ, উল্লাপাড়া, কামারখন্দ, শাহজাদপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সরিষা সবচেয়ে বেশি চাষাবাদ করা হয়েছে। মাঠে মাঠে সরিষা ফুলের হলুদের সমারোহে ছবি তোলার পাশাপাশি সেলফি তোলার হিড়িক পড়ে গেছে।
ইতিমধ্যেই সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তিন শতাধিক মৌখামারি মধু সংগ্রহের জন্য এসে জেলার বিভিন্ন স্থানে সরিষা ক্ষেতের পাশে মৌ বাক্স স্থাপন করেছে এবং মধু উৎপাদন শুরু করেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বাবুল কুমার সুত্রধর বলেন, আগামী তিন বছরে জেলায় ৪০ ভাগ সরিষার তেল উৎপাদন বৃদ্ধির পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সরিষা চাষাবাদে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এ পরামর্শের ফলে কৃষকরা সরিষা চাষে ব্যাপক ভাবে ঝুঁকে পড়েছে। এবার ৬১ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষাবাদ লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও কৃষকরা লক্ষমাত্রার চেয়ে বেশি চাষাবাদ করেছে।
সেইসাথে জেলায় সরিষা ফুল থেকে ৩০০ মে.টন মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে সরিষা চাষাবাদে বাম্পার ফলনের সাথে মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রাও আশানুরূপ অর্জিত হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় কৃষিবিদরা বলছেন, মৌখামারিদের মধু সংগ্রহের সময় মৌমাছির পরাগায়নের ফলে সরিষার অধিক ফলনের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

শুধু তাই নয় মধু উৎপাদন অব্যাহত রাখতে ও মৌমাছি বাঁচাতে সরিষা ফুলে অযাচিত কীটনাশক ব্যবহার বন্ধে কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধি করাও অত্যন্ত জরুরি। এবার জেলায় সরিষার ফুল থেকে মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩’শ মেট্রিক টন। মৌমাছির মধু আহরণের ফলে শুধু খামারিরা লাভবান হবে না কৃষকরাও লাভবান হবে। মৌমাছি মধু সংগ্রহের সময় ফুল থেকে ফুলে উড়ে বেড়ানোর ফলে ঘটে পরাগায়ন।একারণে সরিষার উৎপাদন অবশ্যই ১০/১৫ ভাগ বেশি হবে।
এই সরিষা মৌসুমে খামারিদের উৎপাদিত মধু শুধু মাঠেই বিক্রি করা হয় না। বড় বড় কোম্পানীগুলোও মৌ খামারিদের নিকট থেকে মধু ক্রয় করে থাকেন।
প্রতি কেজি মধু গড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি করা হয়।
এ বিষয়ে জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার বয়ড়া গ্রামের মৌখামারী আব্দুল মান্নান জানান, উপজেলার ধরইল চরপাড়া এলাকার সরিষা মাঠে ৩০০ মৌ বাক্স স্থাপন করা হয়েছে। এই ৩০০ মৌ বাক্স থেকে এক মেট্রিক টন মধু সংগ্রহ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। সেই লক্ষ নিয়ে সব ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ মৌচাষী সমিতির সাবেক সভাপতি আব্দুর রশিদ জানান, গত বছর কৃষকরা জমিতে অধিক ফলনের আশায় সরিষা ফুলে হরমন জাতীয় কীটনাশক প্রয়োগ করায় অনেক মৌমাছি মারা যাওয়ায় মৌ খামারিরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এবার যেন কৃষকরা জমিতে কীটনাশক স্প্রের মাধ্যমে প্রয়োগ করতে না পারে সেজন্য সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগের প্রতি জোর দাবী জানিয়েছেন তিনি।